ডেইলি ডোমকল, লখনউ: উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলায় সরকারি জমি দখল করে নির্মাণের অভিযোগে যে একটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের নোটিস জারি করেছিল যোগী সরকার। নোটিসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মসজিদ কমিটির সদস্যরাই সেই কাঠামো ভেঙে ফেলেছেন। একই সঙ্গে জেলার রায়া বুজুর্গ গ্রামে আরেকটি অবৈধ মসজিদ প্রশাসনের উদ্যোগে ভেঙে ফেলা হয়েছে। আগাম নোটিস দেওয়া সত্ত্বেও সেখানে বেআইনি দখল পুরোপুরি সরানো হয়নি বলে অভিযোগ করে প্রশাসন।
জেলা শাসক রাজেন্দ্র পেনসিয়া সাংবাদিকদের বলেন, সালেমপুর সালার ওরফে হাজিপুর গ্রামের প্রায় ১,৩৩৯ বর্গমিটার সরকারি জমির উপর ‘মদিনা মসজিদ’ ও সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাটি প্রায় ২০–২৫ বছর আগে বেআইনিভাবে নির্মিত হয়েছিল। অবৈধ দখল সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে চার মাসের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। যার মেয়াদ রবিবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই শনিবার মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য এবং মসজিদ কমিটির লোকজন হাতুড়ি ব্যবহার করে নিজেরাই ওই কাঠামো ভাঙতে শুরু করেন। জেলা শাসকের দাবি, বেআইনিভাবে নির্মিত মসজিদ ও মাদ্রাসাটি “মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরাই নিজেরা সরিয়ে দিয়েছেন।”
সম্ভল সদর তহসিলের তহসিলদার ধীরেন্দ্র প্রতাপ সিং বলেন, অবৈধ মসজিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছিল। কেন মসজিদটি সম্প্রদায়ের লোকজন নিজেরাই ভাঙছেন—এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটা ভালো বিষয়। মানুষ নিজের ভুল বুঝতে পারলে তা সব সময়ই ভালো।”
প্রশাসন সূত্রে খবর, রবিবার সকাল পর্যন্ত ভাঙার কাজ চলে এবং বর্তমানে জায়গাটি সম্পূর্ণভাবে দখলমুক্ত। পরে প্রশাসন ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জমিটি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির ২০ জনকে লিজে বরাদ্দ করেছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় সেখানে তাঁদের জন্য বাড়ি নির্মাণ করা হবে বলে খবর। পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার জানান, ধ্বংসাবশেষ সরানোর সময় ছয়টি থানা ও প্রাদেশিক সশস্ত্র কনস্ট্যাবুলারি (PAC)-র দুই প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছিল। রায়া বুজুর্গ গ্রামে অবৈধ মসজিদ ভাঙার প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) কুলদীপ সিং জানান, আগে থেকেই মসজিদ পরিচালন কমিটিকে নিজ উদ্যোগে কাঠামো সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং সময়ও দেওয়া হয়। কিন্তু কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় শেষ পর্যন্ত প্রশাসনকেই ভাঙার কাজ করতে হয়।
নাইব তহসিলদার দীপক কুমার জুরাইল বলেন, ওই কাঠামোটি প্লট নম্বর ৪৫৯-এ নির্মিত হয়েছিল, যা নথিতে সার খাদের জমি হিসেবে নথিভুক্ত। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তহসিলদার আদালত উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিল। ২ অক্টোবর এক সপ্তাহ সময় চাওয়া হলেও পরে আর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পর্যাপ্ত পুলিশ ও PAC মোতায়েন করে শনিবার শান্তিপূর্ণভাবেই ভাঙার কাজ সম্পন্ন হয় এবং কোথাও কোনও প্রতিবাদের খবর পাওয়া যায়নি।
