ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং ইরানের ওপর মার্কিন-ইজরায়েলি সামরিক অভিযানের আঁচ এবার পৌঁছাল কাশ্মীর উপত্যকায়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনির শাহাদাত ও তেহরানের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার শ্রীনগরের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখালেন পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি। বুধবার ইরানের ওপর মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার প্রতিবাদে সরব হন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন মেহবুবা মুফতির নেতৃত্বে পিডিপি সমর্থকরা আয়াতোল্লাহ খামেনির পোস্টার হাতে মিছিলে শামিল হন। মিছিলে আমেরিকা ও ইজরায়েল বিরোধী উত্তাল শ্লোগান ওঠে। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে মেহবুবা মুফতি নিজেই ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত পোস্টার পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি এই বিক্ষোভ চলাকালীন মেহবুবা মার্কিন অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টাইনের ছবিও পুড়িয়ে দেন। যাঁর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সখ্যতা নিয়ে অতীতে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
বিক্ষোভের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ শেয়ার করে মেহবুবা মুফতি লেখেন, “আমি তাঁদের সাথে শান্তিতে আছি যাঁরা আপনার সাথে শান্তিতে আছেন, এবং শেষ বিচার দিবস পর্যন্ত তাঁদের বিরোধিতা করব যাঁরা আপনার বিরোধিতা করেন।”
ইরানের ওপর হামলার প্রথম দিন থেকেই কড়া সমালোচনা করে আসছেন মেহবুবা। এদিন তিনি ভারত সরকার এবং জম্মু-কাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতৃত্বাধীন জোট সরকারকে সরাসরি আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই ‘নগ্ন আগ্রাসন’ নিয়ে কেন্দ্র এবং জম্মু-কাশ্মীর সরকার রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে। খামেনির প্রয়াণকে তিনি ‘শহাদত’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সরকার চুপ থাকলেও সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করবেই। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, “এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা মানেই আইন লঙ্ঘনকারী হওয়া নয়।” প্রসঙ্গত, একদিকে যখন ভূ-রাজনৈতিক কারণে দিল্লি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, সেখানে দাঁড়িয়ে উপত্যকার একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি বিক্ষোভ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
