ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ফের প্যারোল মুক্তি পেলেন গুরমিত রাম রহিম। হরিয়ানার রোহতকের সুনারিয়া জেলে বন্দি ডেরা সচ্চা সৌদার প্রধান গুরমিত রাম রহিমকে ফের ৪০ দিনের প্যারোল দেওয়া হয়েছে। দুই মহিলা অনুগামীকে ধর্ষণ এবং এক সাংবাদিককে খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজাপ্রাপ্ত রাম রহিম বর্তমানে ওই জেলেই বন্দি রয়েছেন। প্রসঙ্গত, গত বছরের অগস্টে তিনি ৪০ দিনের প্যারোল পেয়েছিলেন। তার পরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩০ দিনের প্যারোল, এপ্রিলে ২১ দিনের ফারলো এবং এছাড়াও আরও কয়েক দফা অস্থায়ী মুক্তি দেওয়া হয়েছিল ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত গুরমিত রাম রহিমকে। নতুন করে ৪০ দিনের প্যারোল মঞ্জুর হওয়ায়, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর থেকে মোট ১৫ বার জেল থেকে বাইরে আসছেন গুরমিত রাম রহিম। আগের ২১ দিন ও ৪০ দিনের প্যারোলের সময় তিনি সিরসার ডেরা সচ্চা সৌদার আশ্রমেই ছিলেন। এবারও প্যারোল চলাকালীন সেখানেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
সিবিআই আদালত দুই মহিলা অনুগামীকে ধর্ষণের মামলায় রাম রহিমকে পৃথকভাবে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে, যা মিলিয়ে মোট ২০ বছরের সাজা। এর পাশাপাশি সাংবাদিক রামচন্দ্র ছত্রপতির খুনের মামলায় এবং ডেরা ম্যানেজার রণজিৎ সিংহ খুনের মামলাতেও তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে, ১৬ বছরেরও বেশি পুরনো সাংবাদিক ছত্রপতি খুনের মামলায় রাম রহিম এবং আরও তিন জনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। ২০১৭ সালে প্রথম দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর থেকে রাম রহিম মোট ১৪ বার জেল থেকে অস্থায়ী মুক্তি পেয়েছেন। অধিকাংশ সময়ই তিনি উত্তরপ্রদেশের বাগপত জেলার ডেরা আশ্রমে ছিলেন।
সিরসা সদর দপ্তরভিত্তিক ডেরা সচ্চা সৌদার হরিয়ানা, পঞ্জাব, রাজস্থান-সহ একাধিক রাজ্যে বিপুল সংখ্যক অনুগামী রয়েছে। হরিয়ানার সিরসা, ফতেহাবাদ, কুরুক্ষেত্র, কৈথাল এবং হিসার জেলাগুলিতে সংগঠনটির উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। বারবার প্যারোল দেওয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। একাধিক রাজনৈতিক দল এই বিষয়ে হরিয়ানা সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নিহত সাংবাদিক ছত্রপতির ছেলে অংশুলও আপত্তি জানিয়ে বলেন, রাম রহিম ‘সাধারণ কোনও বন্দি নন, বরং একজন কঠোর অপরাধী’, এবং বারবার তাঁকে মুক্তি দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
যদিও হরিয়ানা সরকার হাই কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় তাদের সিদ্ধান্তের সপক্ষে যুক্তি দিয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, রাম রহিমকে ‘কঠোর অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি এবং জেল কর্তৃপক্ষের মতে তাঁর আচরণ ভালো। জেল বিধি অনুযায়ী, ভালো আচরণসম্পন্ন বন্দিরা প্যারোল বা ফারলো পাওয়ার অধিকারী। বর্তমান নিয়মে একজন বন্দিকে বছরে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত প্যারোল দেওয়া যেতে পারে। এই বিধির কথাই উল্লেখ করে রাজ্য সরকার রাম রহিমকে বারবার প্যারোল দেওয়ার সিদ্ধান্তকে যুক্তিসঙ্গত বলে দাবি করেছে।
