TOP NEWS

গুরুতর মামলার শুনানিতে দেরি যেন না হয়: সব হাইকোর্টকে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: খুন, পণের জন্য মৃত্যু, ধর্ষণসহ গুরুতর অপরাধের মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়ে বিচার কার্য দীর্ঘদিন আটকে রাখা যাবে না— এমন মন্তব্য করে দেশের সব হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের প্রতি নির্দেশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছে, এই ধরনের আবেদন দ্রুত শুনানিতে তুলতে হবে, যাতে বিচার প্রক্রিয়া অযথা ঝুলে না থাকে বা বিলম্বিত না হয়। সুপ্রিম বিচারপতি জে বি পার্দিওয়ালা এবং কে ভি বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চ এই মন্তব্য করে।

রাজস্থান হাইকোর্টে একটি পণের জন্য মৃত্যুর মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ ফ্রেমিংয়ের আদেশের উপর ২০০৩ সালে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয় এবং সেই মামলার পুনর্বিবেচনা শুনতে হাইকোর্টের ২৩ বছর লেগে যায়— এই বিষয়টিকে আদালত “খুব উদ্বেগজনক ও বেদনাদায়ক” বলে অভিহিত করেছে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, “এ ধরনের গুরুতর অপরাধে অন্তর্বর্তী আদেশের জেরে বিচার বছরের পর বছর ঝুলে থাকলে তা ন্যায়বিচারের পরিহাস ছাড়া কিছু নয়।”

সর্বোচ্চ আদালতের ৮ জানুয়ারি ২০২৬-এর আদেশে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে জানায়, ন্যায়বিচার শুধু অভিযুক্তদের ক্ষেত্রেই নয়, ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের ক্ষেত্রেও নিশ্চিত করতে হবে। দেশের শীর্ষ আদালত মন্তব্য করে, “ন্যায়বিচার কোথাও ব্যাহত হলে তা সর্বত্র ন্যায়বিচারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।” সুপ্রিম বেঞ্চ আরও বলে, “এই মামলা সারা দেশের সকল হাইকোর্টের জন্য এক ধরনের চোখ-খোলা বার্তা।”

এদিন ওই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট রাজস্থান হাইকোর্টকে একাধিক প্রশ্নও করেছে। আদালত জানতে চেয়েছে, “ডাউরি ডেথের মতো সংবেদনশীল ফৌজদারি মামলায় চার্জ ফ্রেমিংকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আবেদন শুনতে কেন ২৩ বছর লাগল? কেন অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও শুনানি দ্রুত হয়নি?” এরপরই আদালত নির্দেশ দেয়, হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে এই সংক্রান্ত সমগ্র নথি বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে পাঠাতে হবে। পাশাপাশি আদালত জানতে চেয়েছে, ২০০১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে কতগুলি ফৌজদারি পুনর্বিবেচনা আবেদন শুনে নিষ্পত্তি করেছে হাইকোর্ট। প্রতিটি বছরের ভিত্তিতে আবেদন দাখিল ও নিষ্পত্তির হিসেবও চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

এছাড়া আবেদনকারীদের দাখিল করা পুনর্বিবেচনা আবেদন কতবার শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছিল এবং রাজস্থান সরকার ২৩ বছর ধরে মামলাটি শুনানির জন্য কি উদ্যোগ নিয়েছিল, তাও জানতে চেয়েছে আদালত। আগামী ১৫ জানুয়ারি ফের মামলার শুনানি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!