TOP NEWS

“সিঙ্গুর আমার হৃদয়ে, এখানে কৃষি ও শিল্প চলবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে”: সিঙ্গুরের সভা থেকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভার ঠিক দশ দিন পর, দীর্ঘ চার বছর ব্যবধানে সিঙ্গুরের মাটিতে পা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সিঙ্গুরের প্রশাসনিক সভা থেকে তিনি যেমন আবেগঘন স্মৃতিচারণ করলেন, তেমনই কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় সরকারকে। একইসঙ্গে সিঙ্গুরের জন্য একগুচ্ছ শিল্প প্রকল্পের ঘোষণাও করেন তিনি।

সভার শুরুতেই আন্দোলনের দিনগুলির কথা স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সিঙ্গুর আমার ফেভারিট জায়গা। এই মাটি আঁকড়ে আমি পড়ে থেকেছি, ২৬ দিন অনশন করেছি।” সিঙ্গুরের আন্দোলনের ইতিহাস যে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, তা তিনি এদিন পুনরায় স্পষ্ট করে দেন।

এদিনের সভা থেকে ডিভিসি-র ছাড়া জলে প্লাবন ও কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ঘাটালে বন্যা হলেই আমি ছুটে গিয়েছি। ১০ বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি লিখেছি ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে, কিন্তু কোনো উত্তর মেলেনি।” এরপরই তিনি ঘোষণা করেন যে, কেন্দ্রের সাহায্যের আশায় বসে না থেকে রাজ্য সরকার নিজেই দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ৩০০ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সিঙ্গুরে শিল্পায়ন নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিতে মুখ্যমন্ত্রী বড়সড় ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, কৃষিজমি দখল করে নয়, বরং কৃষি ও শিল্প এখানে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে চলবে।

সিঙ্গুরের জন্য নতুন প্রকল্পসমূহ:

সিঙ্গুর অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক: ৮ একর জমির ওপর ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। ২৮টি প্লটের মধ্যে ইতিমধ্যেই ২৫টি বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে।

প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক: ৭৭ একর জমিতে একটি বেসরকারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে উঠছে।

লজিস্টিক হাব: এখানে অ্যামাজন (Amazon) এবং ফ্লিপকার্ট (Flipkart)-এর মতো বড় সংস্থার ওয়্যার হাউজ বা গুদাম তৈরি হবে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ তত্ত্বকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ডবল ইঞ্জিন সরকার নই, আমাদের সরকার মানুষের সরকার। আমরা যতদিন থাকব, কন্যাশ্রী থেকে শুরু করে সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সচল থাকবে।” এদিনের এই সভার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরবাসীকে এই বার্তাই দিতে চাইলেন যে, কৃষি আন্দোলনের সূতিকাগার এই সিঙ্গুর অদূর ভবিষ্যতে উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!