TOP NEWS

একাধিক ব্যক্তির কাছে ভারতের ভোটার কার্ড-বাংলাদেশের পাসপোর্ট, এসআইআর-এর মধ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডেইলি ডোমকল, কলকাতা: রাজ্যে চলমান স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)-এর মধ্যেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অন্তত ১৪ জনের কাছে একইসঙ্গে ভারতীয় ভোটার পরিচয়পত্র (ইপিক কার্ড) এবং বাংলাদেশের পাসপোর্ট রয়েছে বলে জানতে পেরেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর। প্রশ্ন উঠছে, কিভাবে তাঁরা বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী হওয়ার পরও ভারতের ভোটার কার্ড বানালেন! সূত্রের খবর, ১৪ জন ব্যক্তি আদতে বাংলাদেশের বাসিন্দা কি না—তা যাচাই করতে কলকাতার ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এর কাছে তাঁদের সম্পর্কে তথ্য চেয়েছিল রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের দফতর। সম্প্রতি এফআরআরও সিইও-র দফতর—কে চিঠি দিয়ে নিশ্চিত করেছে, যে সংশ্লিষ্ট ১৪ জনের প্রত্যেকের কাছেই বাংলাদেশের পাসপোর্ট রয়েছে।

কমিশনের সূত্র বলছে, ওই ১৪ ব্যক্তিই বৈধ ভিসায় পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন। তবে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর, তাঁরা আর বাংলাদেশে ফিরে যাননি। পরে বিভিন্ন উপায়ে তাঁরা ভারতীয় পরিচয়পত্র বানিয়ে নেয়। যার মধ্যে একটি হল ইপিক কার্ড। ওই ১৪ জনের খোঁজ মিলেছে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। এই জেলাগুলির মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলার সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।

সিইও দফতরের সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হতে চলা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে ওই ১৪ জনের নাম বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন অব ইন্ডিয়া (ইসিআই)-র কাছে তথ্য পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে আইন অনুযায়ী, ভারতীয় ইপিক কার্ড ও বাংলাদেশের পাসপোর্ট একসঙ্গে ধারণ করার অভিযোগে এই ১৪ জনের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত বছর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় ভুয়ো পাসপোর্ট ও অন্যান্য ভারতীয় পরিচয়পত্র চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রগুলি মূলত অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য জাল নথি সরবরাহ করে থাকে। এই র‍্যাকেটগুলির কার্যকলাপে একটি নির্দিষ্ট ও ধারাবাহিক পদ্ধতির সন্ধান পেয়েছেন। তদন্তে উঠে এসেছে—

প্রথম ধাপে— অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় ধাপে— স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অংশের মাধ্যমে তাঁদের জন্য ভুয়ো জন্মশংসাপত্র ও রেশন কার্ড জোগাড় করে দেওয়া হয়।

তৃতীয় ধাপে— ওই ভুয়ো জন্মশংসাপত্র ও রেশন কার্ডের ভিত্তিতে তাঁদের জন্য ভুয়ো আধার ও প্যান কার্ড তৈরি করা হয়।

চতুর্থ ধাপে— এই সমস্ত জাল ভারতীয় পরিচয়পত্রের সাহায্যে তাঁদের জন্য ভুয়ো ভারতীয় পাসপোর্টের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয় বলে তদন্তে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!