ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্রমবর্ধমান সহিংসতার কবলে পড়ে দক্ষিণ সুদানের জংলেই (Jonglei) রাজ্য এখন এক মানবিক সংকটের দ্বারপ্রান্তে। মঙ্গলবার জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ (UNICEF) এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, রাজ্যটির অন্তত ৪ লক্ষ ৫০ হাজার শিশু বর্তমানে তীব্র অপুষ্টির শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ক্রমাগত সংঘর্ষের কারণে বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার মানুষ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙে পড়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ইউনিসেফের দক্ষিণ সুদান প্রতিনিধি নোয়ালা স্কিনার এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “আমরা জানি যে, সঠিক চিকিৎসা না পেলে একজন অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর মৃত্যুর সম্ভাবনা সাধারণ শিশুর তুলনায় ১২ গুণ বেশি।” তিনি অবিলম্বে সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করার এবং মানবিক সহায়তাকারী দলগুলোর জন্য ‘দ্রুত ও নিরাপদ প্রবেশাধিকার’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকারি সংস্থা ‘রিলিফ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন কমিশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, জংলেই রাজ্যের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ সংঘর্ষের ফলে অন্তত ২ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। সহিংসতার কারণে ত্রাণ পৌঁছানোর পথগুলো কার্যত রুদ্ধ। নদী, আকাশপথ কিংবা সড়ক—সব ক্ষেত্রেই বিধিনিষেধ থাকায় অত্যন্ত ক্ষুধার্ত ও অসুস্থ মানুষের কাছে জরুরি খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছাতে পারছে না সংস্থাগুলো। জংলেই রাজ্যের ছয়টি কাউন্টিতে গুরুতর অপুষ্টির শিকার শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ‘থেরাপিউটিক ফুড’ বা বিশেষ পুষ্টিকর খাবারের মজুদ ফুরিয়ে এসেছে। এছাড়া দেশজুড়ে অন্তত ১৭টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং পাঁচটি জংলেই-সহ মোট ১০টি স্থানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
অপুষ্টির পাশাপাশি ডুক কাউন্টিতে (Duk County) কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিসেফ সেখানে জল বিশুদ্ধকরণ সরঞ্জাম, বালতি এবং সাবান পাঠাচ্ছে। এছাড়া আকোবো এলাকায় ১০ হাজার মানুষের জন্য ম্যালেরিয়ার চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জরুরি স্বাস্থ্য কিট পাঠানো হয়েছে।
২০২৫ সালের শুরু থেকেই দক্ষিণ সুদানে নতুন করে উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৮ সালের শান্তি চুক্তির মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতরকার গভীর বিভাজন ফের প্রকাশ্যে আসায় এই সংঘাতের সূত্রপাত। সরকারি বাহিনী (SSPDF) এবং ওত নাথানিয়েলের নেতৃত্বাধীন বিরোধী বাহিনী (SPLA-IO)-এর মধ্যে লড়াই এখন চরম পর্যায়ে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গত মার্চ মাস থেকে দেশটির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট রিক মাচারকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে বিচারের মুখোমুখি। পশ্চিম ইকুয়েটোরিয়া রাজ্য থেকে শুরু হওয়া এই আগুন এখন উত্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। যদি দ্রুত রাজনৈতিক সমঝোতা এবং ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা না করা যায়, তবে দক্ষিণ সুদান এক অপূরণীয় ধ্বংসলীলার সাক্ষী হতে পারে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
