ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: লাদাখের বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের দীর্ঘ কারাবাস এবং তাঁর ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে, ‘জাতীয় নিরাপত্তা আইন’ (NSA)-এর অধীনে তাঁকে আটকে রাখার সিদ্ধান্তটি যেন নতুন করে পুনর্বিবেচনা করা হয়। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি পি বি বারালে-র ডিভিশন বেঞ্চ ওয়াংচুকের সাম্প্রতিকতম মেডিক্যাল রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর মন্তব্য করেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে “একেবারেই ভালো নয়”।
ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমোর দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে আদালত কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে বলে, “একজন আদালত আধিকারিক হিসেবে বিষয়টি ভেবে দেখুন। প্রায় পাঁচ মাস ধরে আটকাদেশ কার্যকর রয়েছে। আটক ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, যা আমরা রিপোর্টে দেখেছি, তা মোটেও সন্তোষজনক নয়। এই পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় চিন্তাভাবনা করার কোনো অবকাশ আছে কি?” আদালত স্পষ্ট করে দেয়, কোনো আটকাদেশের ভিত্তি যদি আইনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ হয় বা যথাযথ বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ না করে নেওয়া হয়, তবে তা বাতিলযোগ্য।
২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর লাদাখকে পূর্ণ রাজ্য এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফশিলভুক্ত করার দাবিতে চলা আন্দোলনের জেরে সোনম ওয়াংচুককে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীকালে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর এনএসএ (NSA) ধারা প্রয়োগ করে রাজস্থানের যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল কে এম নটরাজ ওয়াংচুকের মুক্তির বিরোধিতা করেন। তাঁর দাবি, গত বছর লেহ-তে হওয়া হিংসাত্মক পরিস্থিতির জন্য ওয়াংচুকই দায়ী। ওই সংঘর্ষে চার জন প্রাণ হারান এবং ১৬১ জন আহত হন। নটরাজের মতে, এনএসএ কোনো শাস্তিমূলক আইন নয়, এটি একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। কোনো ব্যক্তি সরাসরি হিংসায় অংশ না নিলেও তাঁর বক্তব্য যদি জনতাকে উসকানি দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, তবেই এই আইন প্রয়োগ করা যায়।
ওয়াংচুকের আইনজীবীরা আদালতে অভিযোগ করেছেন যে, যোধপুর জেলের অস্বাস্থ্যকর পানীয় জল এবং উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবেই ওয়াংচুক গুরুতর পেটের সমস্যায় ভুগছেন। এমনকি তাঁকে এইমসেও (AIIMS) নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে পরামর্শ দিয়েছে যাতে ওয়াংচুকের বয়স এবং স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হয়। মামলার পরবর্তী শুনানি বৃহস্পতিবার হওয়ার কথা রয়েছে।
