TOP NEWS

বিচার বিভাগকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা: এনসিইআরটির তিন বিশেষজ্ঞকে বরখাস্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের বিচার ব্যবস্থাকে খাটো করে দেখানো এবং পাঠ্যবইয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশনের অভিযোগে বড়সড় পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট। অষ্টম শ্রেণির এনসিইআরটি পাঠ্যবইয়ে ‘বিচার বিভাগে দুর্নীতি’ বিষয়ক বিতর্কিত অধ্যায়টি তৈরির নেপথ্যে থাকা তিন বিশেষজ্ঞ— মাইকেল ড্যানিনো এবং তাঁর দুই সহযোগী সদস্যকে অবিলম্বে সমস্ত সরকারি কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সরকারি বা আংশিক সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠানেই এই তিন বিশেষজ্ঞকে আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, পাঠ্যক্রম তৈরি বা পাঠ্যপুস্তক চূড়ান্ত করার মতো কোনো কাজেই তাঁদের আর যুক্ত রাখা যাবে না। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থে আর কোনোভাবেই তাঁদের পরিষেবা নেওয়া চলবে না।

এদিন আদালত স্পষ্ট করেছে, হয় এই বিশেষজ্ঞরা ভারতীয় বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞ, অথবা তাঁরা সচেতনভাবে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের মনে বিচার বিভাগের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরির জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য বিকৃত করেছেন। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এমন বয়সে থাকে যখন তাদের মনে যে কোনো ধারণা দ্রুত গেঁথে যায়। তাদের সামনে বিচার বিভাগের এমন ভাবমূর্তি তুলে ধরা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

সুপ্রিম কোর্টের সাফ বক্তব্য, “আমাদের কোনো সন্দেহ নেই যে, এই ব্যক্তিরা হয় ভারতীয় বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন, অথবা তাঁরা পরিকল্পিতভাবে বিচার বিভাগের সম্মানহানি করতে চেয়েছেন। এমন ব্যক্তিদের হাতে আগামী প্রজন্মের পাঠ্যক্রম তৈরির দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে না।” সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে কেন্দ্রীয় সরকার, সমস্ত রাজ্য সরকার এবং যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুদান পায়, তাদের জন্য এই তিন বিশেষজ্ঞকে সমস্ত ধরণের একাডেমিক কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর অর্থ হলো, সরকারি তহবিলের কোনো অর্থই আর তাঁদের পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যাবে না।

যাদের বিরুদ্ধে এই কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন- মাইকেল ড্যানিনো (এনসিইআরটির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যক্রমের চেয়ারপারসন), মিসেস দিবাকর (সহযোগী সদস্য) ও আলোক প্রসন্ন কুমার (সহযোগী সদস্য)। উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই এনসিইআরটির এই পাঠ্যবইটি নিয়ে দেশে তীব্র বিতর্ক চলছে। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পর শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম তৈরিতে স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে আদালতের এই রায় এক নজিরবিহীন উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!