ডেইলি ডোমকল, কলকাতা: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড় চমক শাসক শিবিরের। শুক্রবার আসন্ন নির্বাচনের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের ইশতেহার প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘উন্নয়নের চাকা’ সচল রাখতে এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে ১০টি মূল অঙ্গীকার বা ‘প্রতিজ্ঞা’র কথা ঘোষণা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। চতুর্থবার ক্ষমতায় ফিরলে এই ১০টি পথ ধরেই সরকার পরিচালিত হবে বলে জানান তিনি।
‘দুয়ারে চিকিৎসা’: স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিগন্ত
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত ১০টি অঙ্গীকারের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ প্রকল্প। ‘দুয়ারে সরকার’-এর সাফল্যের পর এবার স্বাস্থ্য পরিষেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাইছে রাজ্য। এই প্রকল্পের অধীনে প্রতি বছর রাজ্যের প্রতিটি ব্লক এবং শহরে স্বাস্থ্য শিবির আয়োজন করা হবে। সাধারণ মানুষ যাতে বাড়ির কাছেই উন্নত মানের চিকিৎসা পরিষেবা পান, তা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “স্বাস্থ্য পরিষেবা এবার পৌঁছে যাবে প্রতিটি বাড়ির আঙিনায়।”
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বড় ঘোষণা: বাড়ছে ভাতার পরিমাণ
মহিলা ভোটারদের মন জয়ে ফের বড় বাজি খেলল তৃণমূল। দলের ইশতেহারে জানানো হয়েছে, ক্ষমতায় ফিরলে অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা হবে। সাধারণ বিভাগের মহিলারা প্রতি মাসে ১,০০০ টাকার পরিবর্তে এখন থেকে ১,৫০০ টাকা পাবেন। তফসিলি জাতি ও উপজাতি এই বিভাগের মহিলাদের মাসিক ভাতা ১,২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৭০০ টাকা করা হবে। অর্থাৎ, উভয় ক্ষেত্রেই মাসিক ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হচ্ছে, যা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে।
উন্নয়নের অগ্রযাত্রা বজায় রাখার ডাক
ইশতেহার প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে আপনাদের সামনে এই ১০টি প্রতিজ্ঞা তুলে ধরছি, যা আগামী পাঁচ বছর আমাদের সরকারের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, মহিলাদের ক্ষমতায়ন তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার এবং এই ইশতেহারের লক্ষ্য হলো বাংলার প্রতিটি ঘরে সুখের আলো পৌঁছে দেওয়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “আমরা চাই উন্নয়নের চাকা যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে চলে এবং আমার প্রিয় বাংলার প্রতিটি পরিবার যেন উন্নয়নের সুফল পায়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন প্রকল্পের ঘোষণা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক সংহত করতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
