ডেইলি ডোমকল, হায়দরাবাদ: তেলেঙ্গানায় পথকুকুর নিধন থামার নাম নেই। চলতি মাসের শুরুতে ৫০০টিরও বেশি কুকুর হত্যার ঘটনায় পুলিশি ধরপাকড় চলাকালীনই ফের বিষ খাইয়ে মারা হলো আরও শতাধিক কুকুরকে। অভিযোগ উঠেছে, গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় দেওয়া “কুকুরমুক্ত গ্রাম” গড়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই এই নৃশংস পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৯শে জানুয়ারি রঙ্গারেডি জেলার ইয়াচারাম গ্রামে। পশু কল্যাণ কর্মী মুদাভত প্রীতির (২২) অভিযোগ, গ্রামের সরপঞ্চ, একজন ওয়ার্ড সদস্য এবং গ্রাম সচিব মিলে ষড়যন্ত্র করে কুকুরগুলোকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছেন। প্রীতির অভিযোগের ভিত্তিতে রাচাকোন্ডা পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং পশু নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইনের আওতায় মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, ফোনে কথা বলার সময় এক ওয়ার্ড সদস্য দাবি করেন যে কুকুরগুলোকে অন্য জায়গায় “সরিয়ে নেওয়া হয়েছে”। পরে অন্য একটি ফোনে তিনি স্বীকার করেন যে কুকুরগুলোকে অ্যানেস্থেশিয়ার ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, ইনজেকশন দেওয়ার পরেই কুকুরগুলোর মৃত্যু হয়। পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
চলতি বছরের শুরুতেই পথকুকুরের উপদ্রব কমানোর নামে কয়েকশ কুকুরকে হত্যা করার খবর সামনে আসে। অভিযোগ, পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন অনেক প্রার্থীই জয়ী হলে গ্রামকে “কুকুরমুক্ত” করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্বাচনে জেতার পর সেই প্রতিশ্রুতি পালনের জন্য সুপরিকল্পিতভাবে পথকুকুরদের বিষ প্রয়োগের পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ। জানুয়ারি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে অন্তত ৫০০টি কুকুর হত্যার ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। শ্যামপেট, আরেপল্লী এবং পালভাঞ্চা এলাকায় কুকুরগুলোর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বিষক্রিয়াই মৃত্যুর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন সাতজন সরপঞ্চ, যারা কুকুর নিধনের অনুমতি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এছাড়াও গ্রাম সচিব, সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং কুকুর ধরার জন্য ভাড়া করা তিনজন বেসরকারি ঠিকাদারের নামও এফআইআর-এ নথিভুক্ত করা হয়েছে। তেলেঙ্গানার এই ধারাবাহিক ঘটনা পশু সুরক্ষা এবং গ্রাম পঞ্চায়েতগুলোর কার্যকলাপ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পশুপ্রেমী সংগঠনগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের কঠোর শাস্তি এবং পশু নিষ্ঠুরতা বিরোধী আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে।
