ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: পেটের দায়ে এক মাসের দুধের শিশুকে ঘরে রেখে ভিক্ষা করতে বেরিয়েছিলেন দম্পতি। ফিরে এসে দেখলেন, সব শেষ। অনাহার আর দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় নিথর হয়ে পড়ে আছে এক মাসের একরত্তি কন্যা সন্তান। উত্তরপ্রদেশের বেরিলির কিলা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে।
মৃত শিশুর পিতা মহম্মদ শাদাব সপরিবারে গত চার মাস ধরে ওই এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে তিনি ঘুড়ির মাঞ্জা তৈরির কাজ করতেন। কিন্তু কোভিড অতিমারির সময় কাজ হারানোর পর থেকে আর স্থায়ী কোনও কাজ জোগাড় করতে পারেননি তিনি। সাময়িকভাবে প্রতিবেশীদের সাহায্য পেলেও, শেষ পর্যন্ত পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিতে ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নিতে বাধ্য হন শাদাব ও তাঁর স্ত্রী হিনা।
গত শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ শাদাব ও হিনা তাঁদের তিন সন্তানকে ঘরে রেখে ভিক্ষা করতে বেরিয়েছিলেন। তাঁদের সন্তানদের মধ্যে বড়টির বয়স চার বছর, মেজটির দেড় বছর এবং ছোটটির বয়স ছিল মাত্র এক মাস। দীর্ঘ সাত ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ বাড়িতে ফিরে তাঁরা দেখেন, এক মাসের শিশুকন্যাটি নিস্পন্দ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
রাত ১০টা নাগাদ যখন পরিবারটি শিশুটির শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন পুলিশ খবর পায়। কিলা থানার এসএইচও (SHO) সুভাষ কুমার জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও সংক্রমণের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, অপুষ্টি ও অনাহারও এই অকালমৃত্যুর অন্যতম কারণ। ময়নাতদন্তের পর শনিবার দেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল অতিমারি-পরবর্তী সময়ে প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
