ডেইলি ডোমকল, কলকাতা: নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ রাজ্যের ডব্লিউবিসিএস অফিসাররা। ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর প্রথম পর্যায়ের শেষে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ বা ‘অ্যাডজুডিকেশন’ পর্যায়ে রাখা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দায়ভার নির্ধারণে কমিশনের বিরুদ্ধেই সরব হয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তারা।
নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’-এর প্রথম পর্যায়ের চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’ (Under Adjudication) হিসেবে রাখা হয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে নির্বাচন কমিশন আঙুল তুলেছে সংশ্লিষ্ট মহকুমা শাসক (ERO) এবং বিডিও (AERO)-দের দিকে। কিন্তু কমিশনের এই দাবিকে সরাসরি নস্যাৎ করে দিয়ে পাল্টা তোপ দেগেছে রাজ্যের ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের অ্যাসোসিয়েশন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ERO এবং AERO-রা এই ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের তথ্য যাচাই বা কেস নিষ্পত্তি করতে পারেননি। অর্থাৎ, কমিশনের মতে এই প্রশাসনিক গাফিলতির দায় মূলত রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের।
কমিশনের এই বক্তব্যের পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের সংগঠন জানিয়েছে, ভোটার তালিকার এই পরিস্থিতির জন্য মাঠ পর্যায়ের আধিকারিকরা (ERO/AERO) দায়ী নন। প্রকৃত দায় কমিশন নিযুক্ত ‘অবজার্ভার’-দের। অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, অফিসাররা তাদের কাজ সঠিকভাবেই করেছেন, কিন্তু অবজার্ভারদের নজরদারি বা নির্দেশিকার কারণেই এই বিশাল সংখ্যক নাম আটকে রয়েছে।
প্রশাসনিক আধিকারিকদের এই সুরেই সুর মিলিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের অফিসারদের ওপর দায় চাপিয়ে কমিশন নিজের পিঠ বাঁচাতে চাইছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত অবজার্ভারদের ভুলেই আজ এত লক্ষ মানুষের নাম ঝুলে রয়েছে। অফিসাররা দিনরাত এক করে কাজ করছেন, অথচ দোষ দেওয়া হচ্ছে তাঁদের।” তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভোটার তালিকায় এই ‘বিবেচনাধীন’ নামের সংখ্যা এত বেশি হওয়া কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে।
এদিকে তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ‘বিবেচনাধীন’ তকমা লেগে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। ৬০ লক্ষ ভোটার মানে রাজ্যের মোট ভোটারের এক বিশাল অংশ। এদের নাম যদি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকায় না ফেরে, তবে নির্বাচনী ফলাফলে তার বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
