TOP NEWS

আকাশের রাজা মার্কিন এফ-৩৫: কেন এই যুদ্ধবিমান বিশ্বের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক?

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: আধুনিক রণক্ষেত্রে আকাশপথের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে, যুদ্ধজয়ের সম্ভাবনা তার সবচেয়ে বেশি। আর এই আকাশপথের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প কার্ড হলো লকহিড মার্টিন এফ-৩৫ লাইটনিং ২ (F-35 Lightning II)। পঞ্চম প্রজন্মের এই মাল্টিরোল স্টেলথ ফাইটার জেটটিকে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও উন্নত যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

১. স্টেলথ প্রযুক্তি: রাডারের চোখে ধুলো

এফ-৩৫-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর অবিশ্বাস্য স্টেলথ (Stealth) সক্ষমতা। এর বিশেষ নকশা এবং প্রলেপ রাডার তরঙ্গকে শুষে নিতে বা অন্য দিকে প্রতিফলিত করতে পারে। ফলে শত্রুদেশের আকাশসীমায় ঢুকে পড়লেও এটি রাডারে ধরা পড়ে না। এটি অনেকটা ‘মেঘনাদ’-এর মতো আড়ালে থেকে নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম।

২. আকাশছোঁয়া ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্য

এফ-৩৫ কেবল একটি যুদ্ধবিমান নয়, এটি একটি উড়ন্ত সুপার-কম্পিউটার। এর মূল সক্ষমতাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

ইঞ্জিন ও গতি: এতে ব্যবহৃত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ফাইটার ইঞ্জিন Pratt & Whitney F135। এটি প্রায় ৪০,০০০ পাউন্ড থ্রাস্ট উৎপন্ন করতে পারে এবং এর সর্বোচ্চ গতি ম্যাক ১.৬ (ঘণ্টায় প্রায় ১,২০০ মাইল)।

সেন্সর ফিউশন: এর উন্নত সেন্সরগুলো যুদ্ধক্ষেত্রের চারপাশের তথ্য সংগ্রহ করে পাইলটের হেলমেটে সরাসরি প্রদর্শন করে। এতে কোনো প্রথাগত ডিসপ্লে প্যানেলের প্রয়োজন হয় না।

অস্ত্রভাণ্ডার: এর শরীরের ভেতরেই থাকে গোপনীয় ‘ওয়েপন বে’, যেখানে AIM-120C আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল এবং GBU-31 JDAM এর মতো বিধ্বংসী বোমা রাখা যায়। প্রয়োজনে এটি পারমাণবিক অস্ত্রও বহন করতে সক্ষম।

৩. ভিন্ন ভিন্ন ব্যবহারের জন্য তিনটি ভেরিয়েন্ট

মিশন এবং পরিবেশ ভেদে এফ-৩৫-এর তিনটি আলাদা সংস্করণ রয়েছে:

F-35A – প্রচলিত টেক-অফ ও ল্যান্ডিং (সবচেয়ে হালকা ও দ্রুত), বিমান বাহিনী।

F-35B – হেলিকপ্টারের মতো খাড়াভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ (STOVL), মেরিন কোর।

F-35C – বিমানবাহী রণতরী থেকে উড্ডয়নের উপযোগী (বড় ডানা), নৌবাহিনী।

৪. কেন এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী?

পাইলটদের মতে, এফ-৩৫-এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর নেটওয়ার্কিং ক্ষমতা। এটি কেবল নিজের জন্যই তথ্য সংগ্রহ করে না, বরং যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা অন্যান্য বিমান, জাহাজ এবং স্থলবাহিনীর সাথে তাৎক্ষণিকভাবে ডেটা শেয়ার করতে পারে। একে বলা হয় ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’, যা পুরো বাহিনীর শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য এবং জাপানের মতো মিত্র দেশগুলো এই বিমান ব্যবহার করছে। শত্রুর রাডার জ্যাম করা থেকে শুরু করে আকাশ ও ভূমিতে নিখুঁত আক্রমণ—সব মিলিয়ে এফ-৩৫ বর্তমানে আকাশযুদ্ধের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!