TOP NEWS

যোগের আড়ালে জাল নোট ও যৌন লালসার কারবার: সুরাটের ‘প্রদীপ গুরুজি’-র অন্ধকার সাম্রাজ্যের পর্দাফাঁস

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: আধ্যাত্মিকতা, আয়ুর্বেদ আর যোগব্যায়াম— এই তিনের আড়ালে সুরাটের কামরেজ তালুকার ধোরান পার্দি গ্রামে চলত এক ভয়ংকর অপরাধচক্র। গত সপ্তাহে আমেদাবাদ পুলিশের অভিযানে এই চক্রের পাণ্ডা তথা স্বঘোষিত যোগ গুরু প্রদীপ জটাঙ্গিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই একে একে বেরিয়ে আসছে লোমহর্ষক সব তথ্য। ‘শ্রী সত্য যোগ ফাউন্ডেশন’ নামক ওই আশ্রমটি এখন পুলিশের আতশকাঁচের তলায়।

আশ্রম থেকে উদ্ধার লক্ষাধিক টাকার জাল নোট

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই আশ্রমটি কার্যত জাল নোট তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছিল। তল্লাশি চালিয়ে ৫০০ টাকার নোটের প্রায় ৪০,০০০টি জাল নোট উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা এবং কড়া নিরাপত্তায় মোড়া এই আশ্রমে সাধারণের প্রবেশ ছিল নিয়ন্ত্রিত, যাতে বাইরের দুনিয়া ঘুণাক্ষরেও ভিতরের অপরাধের টের না পায়।

সন্তান লাভের টোপ দিয়ে প্রতারণা

তদন্তে জানা গিয়েছে, নিঃসন্তান দম্পতিদের সন্তান লাভের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা টাকা হাতিয়ে নিতেন এই ভণ্ড গুরু। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার নামে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো। এমনকি নামী কোম্পানির আয়ুর্বেদিক ওষুধের মোড়ক বদলে নিজের তৈরি নিম্নমানের ও জাল ওষুধ সাধারণ মানুষকে চড়া দামে গছিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। আধ্যাত্মিক আচার-অনুষ্ঠানের নাম করে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলতেন এই প্রদীপ জটাঙ্গিয়া।

ভাইরাল ভিডিও ও শিশু নিগ্রহের অভিযোগ

এই মামলার সবথেকে উদ্বেগজনক দিকটি হলো একটি ভাইরাল ভিডিও। অভিযোগ, যোগশাস্ত্রের ‘সুষুম্না নাড়ী’ সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়ার অছিলায় এক নাবালককে অর্ধনগ্ন অবস্থায় প্রদর্শন করেছেন এই ভণ্ড গুরু। এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই নৈতিকতা ও আইন ভাঙার অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিভিন্ন মহল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই ফুটেজটি এখন ফরেনসিক পরীক্ষার মুখে।

তদন্তকারীদের বয়ান

তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, “প্রদীপ জটাঙ্গিয়া ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতেন। সুদূরপ্রসারী এলাকা থেকে মানুষ সমস্যার সমাধান খুঁজতে তাঁর আশ্রমে আসতেন, আর সেই সরলতার সুযোগ নিয়ে তিনি নিজের আখের গুছিয়ে নিতেন।” আপাতত শ্রী সত্য যোগ ফাউন্ডেশনের গেটে ঝুলেছে তালা। পুলিশ খতিয়ে দেখছে এই চক্রের সাথে আর কোনো প্রভাবশালী যোগ রয়েছে কি না। ভণ্ড সাধুর এই কীর্তি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!