ডেইলি ডোমকল, ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ফের চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, পরমাণু অস্ত্র নিয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তেহরানের হাতে “সময় ফুরিয়ে আসছে”। তেহরান আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই কড়া বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের ‘আর্মাডা’ ও ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর স্মৃতি
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, একটি বিশাল নৌবহর বা “ম্যাসিভ আর্মাডা” ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি বলেন, “আশা করি ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসবে এবং একটি ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত চুক্তি করবে—যেখানে কোনো পরমাণু অস্ত্র থাকবে না। আমি ইরানকে আগেও বলেছিলাম চুক্তি করতে, তারা শোনেনি। যার ফলে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এ ইরানের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছিল। পরবর্তী আক্রমণ হবে তার চেয়েও ভয়াবহ!”
এদিকে মার্কিন হুমকির মুখে নতি স্বীকার করতে নারাজ খামেনির দেশ ইরান। দেশটির বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি টেলিভিশন ভাষণে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, সামরিক হামলার ছায়ার নিচে দাঁড়িয়ে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “সামরিক হুমকির মাধ্যমে কূটনীতি চালানো কার্যকর বা ফলপ্রসূ হতে পারে না। যদি তারা আলোচনা চায়, তবে অবশ্যই হুমকি, অন্যায্য দাবি এবং অযৌক্তিক বিষয়গুলো আগে সরিয়ে রাখতে হবে।”
প্রসঙ্গত, গত জুন মাসে ইরানের পরমাণু ও ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি ধ্বংস করার লক্ষ্যে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েছিল ওয়াশিংটন। এরপর থেকেই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পথ খোলা রেখেছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কড়াকড়ির জেরেও হামলার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছে, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন (USS Abraham Lincoln)-এর নেতৃত্বে একটি মার্কিন নেভাল স্ট্রাইক গ্রুপ ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছে গেছে। যদিও কৌশলগত কারণে তাদের সঠিক অবস্থান জানানো হয়নি। অন্যদিকে, আমেরিকার এই রণসজ্জার মোকাবিলায় ইরানও পর্দার আড়ালে আরব দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কূটনৈতিক পথ যদি দ্রুত সুগম না হয়, তবে এই দুই দেশের সংঘাতের রেশ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে ধুলিসাৎ করে দিতে পারে।
