ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: আই-প্যাকের দপ্তর এবং সংস্থার ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি তল্লাশির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) সাংসদরা। তাঁরা “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ” শুরু করলেও, তা অল্প সময়ের মধ্যেই উত্তেজনায় রূপ নেয়। তৃণমূল সাংসদদের সরাতে এগিয়ে আসে দিল্লি পুলিশ। স্লোগান দেওয়া শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই দিল্লি পুলিশ অভিযান চালিয়ে ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র-সহ অন্যান্য সাংসদদের টেনে হিঁচড়ে ধরে পুলিশ ভ্যানে তোলে। পুলিশের হাত থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, “আপনারা দেখছেন, এখানে সাংসদদের সঙ্গে কী হচ্ছে।”
জানা গিয়েছে, শুক্রবার তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, শতাব্দী রায়, মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ-সহ তৃণমূলের একাধিক সাংসদ অমিত শাহের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে তাঁর দপ্তরের সামনে জড়ো হন। তৃণমূল অভিযোগ, কেন্দ্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইডিকে ব্যবহার করছে। বিক্ষোভস্থলে মহুয়া মৈত্র বলেন, “আমরা বিজেপিকে পরাজিত করব। দিল্লি পুলিশ একজন নির্বাচিত সাংসদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করছে, তা দেশ দেখছে।”
এদিকে, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স-এ একটি পোস্টে লেখেন, “গণতন্ত্রকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। সংস্থাগুলোকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হচ্ছে। প্রতিবাদকারীদের জেলে ভরো। ধর্ষকদের জামিন দাও। এটাই বিজেপির ‘নিউ ইন্ডিয়া’। দেশের বাকি অংশ যদি আত্মসমর্পণ করতেও বাধ্য হয়, বাংলা প্রতিরোধ করবে। যতই শক্তি প্রয়োগ করো না কেন, আমরা লড়ব এবং তোমাদের পরাজিত করব।”
তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় অভিযোগ করেন, নির্বাচন এলেই কেন্দ্র তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে কাজে লাগায়। তিনি বলেন, “গতকাল ইডি পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন এলেই ওদের সবকিছু মনে পড়ে যায়। জিততেই তারা ইডি, সিবিআই পাঠায়, কিন্তু তারা জিততে পারবে না।” পরে তৃণমূল সাংসদরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায়ও স্লোগান দিতে থাকেন, যেখানে পুলিশ তাঁদের আটক করে নিয়ে যায়।
