ডেইলি ডোমকল, ওয়াশিংটন: ভেনেজুয়েলায় হামলা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর মার্কিন সামরিক অভিযানকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এই অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আবারও দেখাল যে উচ্চ ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বড় লাভের সম্ভাবনায় মার্কিন সেনাবাহিনী ব্যবহার করতে তারা প্রস্তুত। এই অভিযানে দক্ষিণ আমেরিকার এক শক্তিশালী শাসককে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে, যাঁকে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই “অবৈধ স্বৈরশাসক” ও “নার্কো-সন্ত্রাসী” বলে আখ্যা দিয়ে আসছিল। অবৈধ মাদক পাচারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বিপুল ক্ষতির জন্য দায়ী ছিলেন মাদুরো বলেও অভিযোগ তুলেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, “আসলে এটি ছিল একেবারে দুর্দান্ত একটি অভিযান।” মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ছাড়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেন। পরে ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস অনুষ্ঠানে ট্রাম্প জানান, অভিযানে কিছু মার্কিন সেনা আহত হলেও কেউ নিহত হননি। তবে মাদুরো অপসারিত হওয়ার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে হোয়াইট হাউসের সামনে একাধিক কঠিন প্রশ্ন উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ক্ষমতার শূন্যতা কীভাবে পূরণ হবে, তা বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিনের অতিমুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি এবং মেধাপাচারের সমস্যায় জর্জরিত দেশটিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে না, যদিও ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদ রয়েছে। পাশাপাশি, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলো কী বার্তা নেবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে—বিশেষ করে যখন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাইওয়ান দখলের অঙ্গীকার করেছেন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন ও ন্যাটোর পূর্ব প্রান্ত ঘিরে আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছেন।
ট্রাম্পের বড় ঝুঁকি
মাদুরো অপসারণের এই অভিযান ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিদেশনীতিতে আরেকটি বড় মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধ এড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও ট্রাম্প মার্কিন সামরিক শক্তি প্রদর্শনে পিছপা হননি। জুন মাসে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর, এবার দ্বিতীয়বারের মতো তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের বিরুদ্ধে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযান চালালেন। শনিবারের এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নতুন বাস্তবতায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, যুদ্ধ ও শান্তির প্রশ্নে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য গড়ার প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একতরফা পদক্ষেপ নিচ্ছে—এমন ধারণা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ভেনেজুয়েলার সামরিক অভিযান মিলিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
