ডেইলি ডোমকল, ওয়াশিংটন: ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের পর এবার গ্রিনল্যান্ডের দখলের আস্ফালন দেখাল ট্রাম্প সরকার। ফ্লোরিডায় এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বললেন, “জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার, খনিজের জন্য নয়। আমাদের কাছে খনিজ, তেল—সবই প্রচুর রয়েছে। বিশ্বের যে কোনো দেশের চেয়ে আমাদের তেল বেশি। গ্রিনল্যান্ড আমাদের দরকার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে।” হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “গ্রিনল্যান্ডের উপকূলজুড়ে তাকালে দেখা যাবে রুশ ও চিনা জাহাজ ছড়িয়ে রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আমাদের এটি চাই। আমাদের এটি পেতেই হবে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে বিশেষ দূত হিসেবে মার্কোকে (মার্কিন বিদেশমন্ত্রী) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রবিবার দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার, একেবারেই দরকার।” এদিকে আরও একটি দেশ দখলের মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য কী হতে পারে, তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন উঠছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে ট্রাম্পের নীতি বিষয়ক উপ-মুখ্য সচিব স্টিফেন মিলারের স্ত্রী ও ডানপন্থী পডকাস্টার কেটি মিলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকায় মোড়ানো গ্রিনল্যান্ডের একটি মানচিত্র পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, “শিগগিরই”। এই পোস্ট ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
BREAKING: President Trump just said “WE NEED GREENLAND” for national security and that Venezuela might NOT be the last country subject to American intervention.
“If you take a look at Greenland, you have Russian and Chinese ships all over the place.” pic.twitter.com/9FJIMl33eS
— Megh Updates 🚨™ (@MeghUpdates) January 4, 2026
‘দেশ বিক্রির জন্য নয়’: পাল্টা গ্রিনল্যান্ড
গ্রিনল্যান্ড—দেশটি ন্যাটো জোটের সদস্য। সেই খনিজসমৃদ্ধ ভূখণ্ডকে দখল করার ইঙ্গিত ঘিরে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন ওই পোস্টকে “অসম্মানজনক” বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “দেশ ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে—আমাদের মর্যাদা ও অধিকার উপেক্ষা করা প্রতীকী অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নয়।” গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “আতঙ্কিত হওয়ার বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের দেশ বিক্রির জন্য নয়, আর আমাদের ভবিষ্যৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে নির্ধারিত হবে না।”
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত জেসপার মোলার সোরেনসেন ওই পোস্টটি পুনরায় শেয়ার করে দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “আমরা ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সেইভাবেই একসঙ্গে কাজ করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা মানেই গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের নিরাপত্তা।” তিনি জানান, ডেনমার্ক ২০২৫ সালে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়িয়ে ১৩.৭ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে, যা আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে ব্যবহৃত হতে পারে। সোরেনসেনের মতে, “আমরা যৌথ নিরাপত্তাকে গুরুত্ব সহকারে দেখি।” একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ডেনমার্ক রাজ্যের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সম্মান আমরা প্রত্যাশা করি।”
