ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ইউক্রেনে রাতভর ব্যাপক আকাশপথে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। হামলায় প্রায় ৩০০ আক্রমণাত্মক ড্রোনের পাশাপাশি ১৮টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও সাতটি ক্রুজ মিসাইল ব্যবহৃত হয়েছে। এক্স-এ (X) পোস্ট করা বিবৃতিতে জেলেনস্কি জানান, হামলায় ব্যবহৃত অধিকাংশ ড্রোন ছিল ‘শাহেদ’ ধরনের মানববিহীন আকাশযান এবং রাশিয়া আবারও ইউক্রেনের বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামো ও সাবস্টেশনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এতে বিভিন্ন অঞ্চলে আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের মতে, দিনিপ্রো, ঝিতোমির, জাপোরিঝিয়া, কিয়েভ, ওডেসা, সুমি, খারকিভ ও দোনেৎস্ক অঞ্চলকে নিশানা করা হয়। খারকিভ অঞ্চলের কোরোটিচে একটি ডাক টার্মিনালে হামলায় চারজন নিহত হন। জেলেনস্কি বলেন, “গত রাতে রাশিয়ানরা প্রায় ৩০০ আক্রমণাত্মক ড্রোন—এর বেশিরভাগই ‘শাহেদ’—সহ ১৮টি ব্যালিস্টিক এবং ৭টি ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। প্রধান লক্ষ্য ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও সাবস্টেশন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে আবাসিক ও বেসামরিক স্থাপনায়।” নিহতদের পরিবারের প্রতি তিনি শোক প্রকাশ করেন।
শীতপ্রবাহের মধ্যে ইউক্রেনের ঘরবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার উদ্দেশ্যেই রাশিয়া এমন হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। জেলেনস্কি কথায়, কিয়েভ অঞ্চলের পরিস্থিতি এখনও কঠিন এবং হামলার পর সেখানে কয়েক লাখ পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। জরুরি সেবা সংস্থাগুলো মাঠে কাজ চালাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় “পয়েন্টস অব ইনভিন্সিবিলিটি” চালু করা হয়েছে। ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহায়তার কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, “যেখানে রাশিয়া ধ্বংসসাধনের চেষ্টা করে, সেখানেই ইউক্রেনীয়রা একে অপরকে সহায়তা করে। বিশেষত শীতকালে এই অভ্যন্তরীণ স্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আবারও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি হামলাই ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বিশেষত শীতকালে প্রতিদিনই বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য মিসাইল দরকার। জেলেনস্কি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় অংশীদারদের থেকে ইতোমধ্যে ঘোষিত সহায়তার দ্রুত সরবরাহ আশা করছে ইউক্রেন। তার বক্তব্যে তিনি বলেন, “রাশিয়াকে বুঝতে হবে—শীতল আবহাওয়া যুদ্ধ জয়ে তাকে সাহায্য করবে না।”
