ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের মিরাটে দলিত মহিলাকে খুন করে তাঁর মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের মীরঠের সারধনা থানা এলাকার কাপসাদ গ্রামে। এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা অবনতির হওয়ার আশঙ্কায় এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ৮টার সময় মা–মেয়ে দু’জন মাঠের দিকে যাওয়ার পথে খালে কাছে অভিযুক্ত পারাস তাঁদের পথ আটকায়। পারাস একজন স্থানীয় ডাক্তারখানায় কম্পাউন্ডার হিসেবে কাজ করত। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পারাস ও ওই ২০ বছরের তরুণী একই গ্রামের বাসিন্দা এবং তারা একে অপরকে চিনতেন। পারাস প্রথমে তাঁদের সঙ্গে অশোভন আচরণ শুরু করে। তাতে আপত্তি জানালে অভিযুক্ত ধারালো আখ কাটার অস্ত্র দিয়ে তরুণীর মায়ের মাথায় আঘাত করে এবং এরপর জোর করে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, চিৎকার শুনে আশপাশের গ্রামবাসীরা ছুটে এসে গুরুতর আহত মহিলাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসার সময়ই তিনি মারা যান।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। ভীম আর্মির কর্মী ও স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বাকযুদ্ধের ঘটনাও ঘটে।
মীরঠের এসএসপি বিপিন টাডা জানান, অভিযুক্তকে গ্রেফতার এবং অপহৃত তরুণীকে উদ্ধারের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ)-এর নেতৃত্বে পাঁচটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। সার্কেল অফিসার অশুতোষ কুমারের বক্তব্য, অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই মামলা রুজু হয়েছে।
এই ঘটনাকে “দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক” বলে কড়া ভাষায় রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছেন বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) সুপ্রিমো মায়াবতী। এক্স-এ পোস্ট করে তিনি লেখেন, “উত্তরপ্রদেশের মীরঠে সারধনা থানা এলাকায় একটি দলিত মা-কে হত্যা ও তার কন্যাকে অপহরণের ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক, লজ্জাজনক এবং গভীর উদ্বেগের।” তিনি আরও বলেন, “মহিলাদের মর্যাদাহানি এবং তার পরবর্তী খুনের ঘটনাগুলিকে সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ রোখা যায়।”
