TOP NEWS

ঘৃণা-হিংসার ঘটনায় ‘সাধারণ মারপিট’-এর মামলা, সুপ্রিম কোর্টে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: পাঁচ বছর আগের এক সাম্প্রদায়িক হেনস্থার ঘটনায় যথাযথ আইনি ধারা প্রয়োগ না করায় উত্তরপ্রদেশ সরকারের ওপর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। নয়ডায় এক মুসলিম প্রৌঢ়কে নিগ্রহের ঘটনায় ‘হেট ক্রাইম’ বা ঘৃণা-হিংসার ধারা কেন এফআইআর-এ যুক্ত করা হয়নি, তা নিয়ে যোগী সরকারকে জবাবদিহি করতে বলেছে শীর্ষ আদালত। মঙ্গলবার বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ উত্তরপ্রদেশ সরকারকে দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩বি এবং ২৯৫এ ধারায় মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই দুটি ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

দিল্লির বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী কাজিম আহমেদ শেরওয়ানি ২০২১ সালের জুলাই মাসে এক আত্মীয়ের বিয়েতে যোগ দিতে আলিগড় যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, নয়ডার সেক্টর ৩৭-এর কাছে একটি গাড়ি থেকে একদল উগ্রপন্থী তাঁকে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তোলে। সেখানে তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়, লুটপাট করা হয় এবং তাঁর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে কটূক্তি ও অপমান করা হয়। শেরওয়ানির অভিযোগ, ঘটনার পর পুলিশে অভিযোগ জানালেও নয়ডা পুলিশ বিষয়টিকে কেবল সাধারণ মারপিট হিসেবে দেখিয়ে লঘু ধারায় মামলা করেছিল। ঘৃণা-বিদ্বেষের বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যায় যোগীর পুলিশ।

আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী হুজাইফা আহমাদি আদালতে সওয়াল করেন, পুলিশ জেনেশুনে প্রয়োজনীয় ধারাগুলো প্রয়োগ করেনি। তিনি বলেন, “এটি কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে একটি নির্দিষ্ট ছকে করা হামলা।” অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল কে.এম. নটরাজ জানান, গাফিলতির দায়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। কিন্তু আদালত এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি। বেঞ্চ পালটা প্রশ্ন করে, “বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা কোনো সমাধান নয়। যতক্ষণ না আপনারা সঠিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত করছেন, ততক্ষণ বিচার প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে?”

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেও এই একই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট উত্তরপ্রদেশ পুলিশকে ভর্ৎসনা করে বলেছিল, ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ দেশে ঘৃণা-বিদ্বেষমূলক অপরাধের কোনো জায়গা নেই। কর্তৃপক্ষ যেন এই ধরনের অপরাধকে ‘কার্পেটের নিচে চেপে রাখার’ চেষ্টা না করে। শেরওয়ানি শীর্ষ আদালতের কাছে কেবল হামলাকারীদের শাস্তিই চাননি, বরং যেসব পুলিশ আধিকারিক তাঁর অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেছিলেন এবং তাঁকে চিকিৎসার সুযোগ দেননি, তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!