ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের বর্তমান সামরিক অভিযান বা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চললেও দেশটির শাসনব্যবস্থা উপড়ে ফেলা সম্ভব নয় বলে মনে করছে খোদ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল (NIC)-এর একটি অত্যন্ত গোপনীয় রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বড় ধরনের সামরিক হামলা সত্ত্বেও ইরানের বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো টিকে থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ প্রকাশিত এই রিপোর্টে ইরানের টিকে থাকার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ উল্লেখ করা হয়েছে:
১. নেতৃত্বের সুরক্ষা: শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ইরানের একটি সুনির্দিষ্ট ও মজবুত ‘প্রটোকল’ বা নিয়মাবলি রয়েছে।
২. দুর্বল বিরোধী পক্ষ: বর্তমানে ইরানের বিরোধী দলগুলো অত্যন্ত বিচ্ছিন্ন ও অসংগঠিত, যা তাদের ক্ষমতা দখলের পথে বড় বাধা।
৩. বিদ্রোহের অভাব: দেশজুড়ে ব্যাপক বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও আইআরজিসি (IRGC)-এর মতো শক্তিশালী বাহিনীর উপস্থিতিতে কোনো গণ-অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা দেখছেন না মার্কিন কর্মকর্তারা।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ইরান বিশেষজ্ঞ সুজান ম্যালোনি এই রিপোর্টকে ‘গভীর তথ্যসমৃদ্ধ এবং বাস্তবসম্মত’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, কুর্দি বিদ্রোহীদের অস্ত্রশস্ত্র দেওয়া বা সরাসরি পদাতিক সৈন্য পাঠানোর মতো বিষয়গুলো এই রিপোর্টে খতিয়ে দেখা হয়নি।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করা, নৌবাহিনীকে পঙ্গু করে দেওয়া এবং প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে মদত দেওয়া বন্ধ করাই ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র মূল লক্ষ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে পুরোপুরি ‘পরিষ্কার’ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন, তা তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুমোদন করবেন। ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোর অপসারণের পর ডেলসি রদ্রিগেজকে যেভাবে সমর্থন দেওয়া হয়েছিল, ইরানেও তেমনটাই করতে চান তিনি। বিশেষ করে, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির ক্ষমতায় আসাকে ট্রাম্প ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে ঘোষণা করেছেন। তাঁর মতে, খামেনির অনুসারী কেউ ক্ষমতায় এলে পাঁচ বছরের মধ্যে ফের যুদ্ধ শুরু হবে।
যদিও তেহরান কড়া জবাব দিয়ে বলেছে, ‘এপস্টাইনের গ্যাং সিদ্ধান্ত নেবে না’। ট্রাম্পের এই দাবির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “ইরানের ভাগ্য একমাত্র ইরানের গর্বিত জাতিই নির্ধারণ করবে, [জেফরি] এপস্টাইনের কোনো গ্যাং নয়।” এদিকে, আয়তোল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশ পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল গঠন করেছে ইরান।
যদিও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ক্ষমতা পরিবর্তনের বিষয়ে সন্দিহান, তবুও আমেরিকা ও ইসরায়েল তাদের বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে যুদ্ধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার পর ট্রাম্প তেহরানকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের পরাজিত পক্ষ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ট্রাম্প ইরানের প্রতি ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ দাবি জানিয়েছেন, যার বিনিময়ে তিনি ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
