নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমশই বাড়ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের সংগঠনকে চাঙা করতে এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের সামনে আনতে ব্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে মুর্শিদাবাদের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ডোমকল বিধানসভা আসনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করল সিপিআইএম। সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন, ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে সিপিআইএমের প্রার্থী হচ্ছেন মোস্তাফিজুর রহমান (রানা)।
দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সাংবাদিক সম্মেলনে বিমান বসু বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ডোমকল কেন্দ্র থেকে লড়াই করার জন্য দলের পক্ষ থেকে মোস্তাফিজুর রহমানের ওপরই আস্থা রাখা হয়েছে। তিনি জানান, সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে।
আগের নির্বাচনেও ছিলেন প্রার্থী
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত বিধানসভা নির্বাচনেও একই কেন্দ্র থেকে সিপিআইএমের প্রার্থী ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। সেই সময়ও দল তাঁর ওপরই ভরসা রেখেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। তবুও দলের সংগঠনের কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি এবং এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিয়েছেন। বাম নেতৃত্বের মতে, গত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা এবং এলাকায় দীর্ঘদিনের সংগঠনমূলক কাজের ফলে মোস্তাফিজুর রহমানের গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়েছে। তাই এবার আবারও তাঁকে সামনে রেখে লড়াইয়ে নামতে চাইছে দল।
রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ডোমকল
মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন হিসেবে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস এবং বাম দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে। জেলার অন্যান্য কেন্দ্রের মতো ডোমকলেও ভোটের ফলাফল প্রায়শই বড় রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। বাম নেতৃত্বের দাবি, এলাকায় কৃষক, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের নানা সমস্যার সমাধানে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতাকে শক্তিশালী করতে এবং মানুষের স্বার্থে লড়াই চালিয়ে যেতে মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রার্থী করা হয়েছে।
সংগঠন মজবুত করার লক্ষ্য
প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই ডোমকল এলাকায় বাম কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ তৈরি হয়েছে বলে দাবি দলের স্থানীয় নেতৃত্বের। তাঁদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই সংগঠনকে আরও মজবুত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বুথভিত্তিক সংগঠন শক্তিশালী করা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হবে। বাম নেতাদের বক্তব্য, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মানুষ বিকল্প খুঁজছেন। সেই বিকল্প হিসেবে বামপন্থী রাজনীতিকে সামনে আনতেই তারা চেষ্টা করছেন।
প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া
প্রার্থী ঘোষণার পর মোস্তাফিজুর রহমান (রানা) বলেন, দলের এই সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে বড় দায়িত্বের বিষয়। এলাকার মানুষের সমস্যার কথা তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাছ থেকে দেখেছেন এবং সেগুলোর সমাধানের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, “দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলোকে সামনে রেখেই নির্বাচনী প্রচার চালানো হবে।” তিনি আরও জানান, আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তাঁর কাজে লাগবে। মানুষের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ বাড়িয়ে এবার নতুনভাবে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
রাজ্যের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুকে ঘিরে বিরোধী দলগুলোর সক্রিয়তা বেড়েছে। বামফ্রন্টও সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে চাইছে। তাদের মতে, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলোতে সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডোমকলের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে শক্তিশালী লড়াই গড়ে তুলতে চাইছে সিপিআইএম। মোস্তাফিজুর রহমানকে সামনে রেখে সেই লড়াই আরও সংগঠিতভাবে চালানো হবে বলে দলের নেতারা জানিয়েছেন।
তৃণমূলের সঙ্গে লড়াইয়ের প্রস্তুতি
গত নির্বাচনে ডোমকল কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন। ফলে এবারের নির্বাচনেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৃণমূল এবং বামপন্থীদের মধ্যে হতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। বামেদের দাবি, গত কয়েক বছরে এলাকায় বিভিন্ন সমস্যা বেড়েছে। সেই সমস্যাগুলো তুলে ধরে তারা ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে চাইছে। অন্যদিকে শাসক দলও নিজেদের উন্নয়নমূলক কাজের কথা সামনে রেখে ভোটের ময়দানে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক তৎপরতা
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে সক্রিয় হয়ে উঠছে। প্রার্থী ঘোষণা, কর্মসূচি গ্রহণ এবং সাংগঠনিক বৈঠকের মাধ্যমে নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্রেও সেই প্রস্তুতির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সিপিআইএমের পক্ষ থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রার্থী ঘোষণা করার পর রাজনৈতিক আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।
সামনে কঠিন লড়াই
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোমকল কেন্দ্র বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ফলে আসন্ন নির্বাচনে এখানে কঠিন লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটের ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করবে বিভিন্ন দলের সংগঠন, প্রচার এবং স্থানীয় ইস্যুগুলোর ওপর।
সিপিআইএমের দাবি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং দীর্ঘদিনের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তাদের বড় শক্তি। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও নিজেদের সংগঠন ও উন্নয়নের দাবিকে সামনে রেখে ভোটের লড়াইয়ে নামবে। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ডোমকল কেন্দ্রটি যে আবারও রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দান হয়ে উঠতে চলেছে, তা এখন থেকেই স্পষ্ট। রানাকে প্রার্থী ঘোষণা করার মাধ্যমে সেই লড়াইয়ের প্রথম ধাপ শুরু করল সিপিআইএম।
