ডেইলি ডোনকল, লখনউ: তিনি মুসলিমদের ভোট নেবেন না এবং তাদের ভোটও তাঁর প্রয়োজন নেই। ফলে ওই সম্প্রদায়ের মানুষের ‘সুখ-দুঃখে’ কথাও তিনি ভাববেন না। এমনই বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন উত্তরপ্রদেশের এক প্রবীণ বিজেপি নেতা ও জগদীশপুরের বিধায়ক সুরেশ পাসি। তাঁর ওই মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তর্জাও। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে জগদীশপুরের বিজেপি বিধায়ককে বলতে শোনা যায়, “আমি কখনও মসজিদে যাই না, অতীতেও যাইনি এবং ভবিষ্যতেও যাব না। আমি ভোট চাইতে যাই না, তাঁদের সুখ-দুঃখেও অংশ নিই না।” তিনি আরও বলেন, মুসলিমদের বাড়িতে গিয়ে ভোট না চাইতে যাওয়াতে তিনি সম্পূর্ণভাবে অনড়।
প্রশ্ন উঠছে, একজব জনপ্রতিনিধি কি প্রকাশ্যে এধরণের মন্তব্য করতে পারেন। সংবিধান অনুযায়ী, তিনি সব সম্প্রদায়ের জনপ্রতিনিধি। তবে বিজেপি বিধায়কের এই মন্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে বিজেপির আমেঠি জেলা নেতৃত্ব। জেলা সভাপতি সুধাংশু শুক্লা বলেন, “বিজেপি ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস’-এ বিশ্বাস করে। এটাই দলের স্পষ্ট অবস্থান। সুরেশ পাসি যা বলেছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত মতামত।”
এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের আমেঠি জেলা সভাপতি প্রদীপ সিংহল এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, “নির্বাচন এলেই বিজেপি নেতারা এ ধরনের মন্তব্য করেন। ভোটের স্বার্থে ভাইয়ে ভাইয়ে, ধর্মে ধর্মে ও জাতিতে জাতিতে বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করেন। এসব আসলে নাটক।” এদিকে সমাজবাদী পার্টির জেলা সভাপতি রাম উদিত যাদবও এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “হিন্দু-মুসলিম বিভাজন তৈরি করাই বিজেপির রাজনীতি। সুরেশ পাসি সেই দলেরই নেতা। ভোটের জন্য বিজেপি যে কোনও সীমা পর্যন্ত যেতে পারে।”
