TOP NEWS

“ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র সফল হতে দেব না”: রেড রোডের ঈদ সভা থেকে বিজেপি-কে কড়া হুঁশিয়ারি মমতার

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত পবিত্র ঈদুল ফিতরের বিশাল জমায়েত থেকে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি-র বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার ঈদের নামাজ শেষে কয়েক হাজার পুণ্যার্থীর উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি অভিযোগ করেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষের “ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার” চেষ্টা করছে কেন্দ্র।

তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার আড়ালে পরিকল্পিতভাবে বহু মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলো থেকে প্রকৃত ভোটারদের নাম ছেঁটে ফেলে নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, “আমরা মোদীজি এবং বিজেপি-কে আপনাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে দেব না। গণতন্ত্র এবং প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষায় আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, সংশোধন বা যাচাইকরণের নামে ভোটারদের বঞ্চিত করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে তাঁর দল সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করবে।

বাংলার চিরাচরিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলা বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। এখানে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান—সবাই মিলেমিশে থাকে। যারা বাংলাকে টার্গেট করছে এবং মানুষকে ভাগ করার চেষ্টা করছে, তাদের স্থান হবে নরকে।”

রেড রোডের এই বার্ষিক ঈদ জমায়েত পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান, যা নির্বাচনী বছরে প্রায়শই একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়। এ বছর এই অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে এক হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। রাজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোটারের কাছে পৌঁছানোর এই সুযোগকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তৃণমূল কংগ্রেস যেখানে টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় আসার লড়াই চালাচ্ছে, সেখানে বিজেপি ২০১৯ এবং ২০২১ সালের নির্বাচনের সাফল্যকে পুঁজি করে নিজেদের শক্তি আরও সংহত করতে মরিয়া। এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক অবস্থান আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!