ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি বর্তমান ‘উন্মাদনাপূর্ণ’ ও ‘অপরাধমূলক’ শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের নীতি অব্যাহত রাখেন, তবে বিশ্ব তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ। সোমবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘তাস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ভয়াবহ আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন।
মেদভেদেভের মতে, বিশ্বজুড়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা একটি যুদ্ধের আবহ তৈরি করছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “যদি ট্রাম্প শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের এই উন্মাদ পথ থেকে সরে না আসেন, তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়া নিশ্চিত। যে কোনো ছোট ঘটনাই এই যুদ্ধের স্ফুলিঙ্গ হিসেবে কাজ করতে পারে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পবিত্র যুদ্ধ’ (Holy War) ঘোষণা করার পর থেকে মার্কিন এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। মেদভেদেভ মন্তব্য করেন যে, ট্রাম্প একটি ‘গুরুতর ভুল’ করেছেন এবং তার এই সিদ্ধান্তের ফলে সমগ্র মার্কিন জাতি হুমকির মুখে পড়েছে। ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মেদভেদেভ বলেন, “ইরান একটি প্রাচীন সভ্যতা। তারা অপেক্ষা করতে জানে। তারা এই সংঘাত সামলে নিতে পারবে, তবে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।” একই সাথে তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর তীব্র সমালোচনা করে তাদের মার্কিন ও ইসরায়েলি নীতির প্রতি ‘দাসত্বমূলক’ আচরণ করার অভিযোগ তোলেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন আলোচনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মেদভেদেভ জানান, রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে ডেকে ইউক্রেনকে পুনরায় শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তিনি মনে করেন, পশ্চিমা বিশ্বের হঠকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো ‘জাদুকরী সমাধান’ নেই। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “পশ্চিমাদের প্রতি আমাদের একমাত্র নিশ্চয়তা হলো—যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে ভয় পায়। তারা পারমাণবিক যুদ্ধের ভয়াবহতা জানে। যদি এমন কোনো যুদ্ধ সংঘটিত হয়, তবে হিরোশিমা ও নাগাসাকির ঘটনা তার কাছে অনেকটা খেলার মাঠের শিশুকালীন ভুলের মতো মনে হবে।”
মেদভেদেভ আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (IOC) কঠোর সমালোচনা করে বলেন, অলিম্পিক আন্দোলনের মূল আদর্শ থেকে তারা বিচ্যুত হয়েছে। তার মতে, আইওসি ভেঙে নতুন করে গঠন করা উচিত এবং পিয়ের দ্য কুবের্তিনের দেখানো পথে পুনরায় হাঁটা প্রয়োজন। মেদভেদেভের এই কঠোর মন্তব্য বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
