ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: ভারতীয় সংসদীয় গণতন্ত্রে লোকসভা ভেঙে গেলেও রাজ্যসভা একটি স্থায়ী কক্ষ। আর সেই কারণেই লোকসভায় পেশ হওয়া বিল খারিজ হয়ে গেলেও রাজ্যসভায় পেশ হওয়া বিল বছরের পর বছর টিকে থাকে। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যসভায় মোট ১৯টি বিল ঝুলে রয়েছে, যার মধ্যে সবথেকে পুরনো বিলটি ৩২ বছরের পুরনো।
তিন দশকের অপেক্ষা: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিল
রাজ্যসভার বুলেটিন অনুযায়ী, মুলতুবি বিলগুলোর মধ্যে সবথেকে প্রাচীন হলো ‘সংবিধান (৭৯তম সংশোধন) বিল, ১৯৯২’। তিন দশক আগে পেশ হওয়া এই বিলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল— রাষ্ট্র জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং ছোট পরিবারের নীতি প্রচার করবে। ছোট পরিবারের আদর্শ মেনে চলাকে নাগরিকদের মৌলিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দুইয়ের অধিক সন্তান থাকলে সাংসদ বা বিধায়ক পদ খারিজের (Disqualification) কঠোর সংস্থানও রাখা হয়েছিল এই বিবেচ্য বিলে।
আটকে রয়েছে দিল্লি ভাড়াটে আইন ও বীজ বিল
তালিকায় রয়েছে ১৯৯৭ সালের ‘দিল্লি রেন্ট (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল’। ভাড়াটে ও মালিকপক্ষের তীব্র বিরোধিতার মুখে ১৯৯৫ সালের মূল আইনটি আধুনিকীকরণের এই প্রচেষ্টা থমকে যায়। অন্যদিকে, বীজের গুণমান নিয়ন্ত্রণ এবং আমদানি-রপ্তানি সহজতর করতে ২০০৪ সালে ‘সিডস বিল’ আনা হলেও তা এখনও পাশ হয়নি। উল্লেখ্য, সরকার বর্তমানে ২০২৫ সালের একটি নতুন বীজ বিল আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পরিযায়ী শ্রমিক ও ইউপিএ আমলের বিল
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘আন্তঃরাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক (নিয়োগ ও পরিষেবার শর্তাবলী সংশোধন) বিল, ২০১১’ এখনও রাজ্যসভায় আটকে রয়েছে। এটি তৎকালীন শ্রমমন্ত্রী (বর্তমানে কংগ্রেস সভাপতি) মল্লিকার্জুন খাড়গের আমলে পেশ করা হয়েছিল। এছাড়াও দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের আমলের ভবন নির্মাণ কর্মী বিল (২০১৩), কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র সংক্রান্ত বিল এবং তফশিলি জাতি-জনজাতি পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিলগুলোও মুলতুবি তালিকার অন্তর্ভুক্ত।
এনডিএ আমলের মুলতুবি বিল
নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে আনা কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিলও এই তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০১৯ সালের ‘সংবিধান (১২৫তম সংশোধন) বিল’। উত্তর-পূর্ব ভারতের অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরামের স্বায়ত্তশাসিত পরিষদগুলোকে শক্তিশালী করা এবং গ্রাম ও পৌর পরিষদগুলোতে নির্বাচন চালু করাই ছিল এর লক্ষ্য। এছাড়াও ২০১৯ সালের অনাবাসিক ভারতীয়দের (NRI) বিবাহ নথিভুক্তকরণ বিল এবং ২০২০ সালের কীটনাশক ব্যবস্থাপনা বিলটিও এখনও দিনের আলো দেখেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে এই বিলগুলো আটকে থাকা সংসদীয় কার্যকারিতার ওপর একপ্রকার প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে। তবে রাজ্যসভা যেহেতু স্থায়ী কক্ষ, তাই এই বিলগুলো সংসদীয় রেকর্ড থেকে মুছে যায়নি।
