ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম সিংভূম জেলায় একটি বুনো হাতির তাণ্ডবে প্রাণহানির ঘটনায় “হাতির জরুরি অবস্থা” ঘোষণা করেছে ঝাড়খণ্ড সরকার। পালছুট হয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা এই হাতিটি এ পর্যন্ত অন্তত ২২ জনকে পিষে মেরেছে এবং প্রতিদিন প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিচরণ করছে। হাতিটিকে শনাক্ত করতে ও কবজা করতে বন বিভাগ ১০০-রও বেশি কর্মী মোতায়েন করেছে। তিনবার হাতিটিকে ঘুমপাড়ানি গুলি করার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি।
বন দফতরের ধারণা, হাতিটি বর্তমানে ‘মাস্ট’ বা মত্ত অবস্থায় রয়েছে। এটি পুরুষ হাতির একটি স্বাভাবিক শারীরিক পর্যায়, যখন তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। এর ফলে তারা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ, বিপজ্জনক এবং অননুমেয় হয়ে ওঠে। সাধারণত এই অবস্থা দুই থেকে তিন মাস স্থায়ী হয়, এরপর হাতির আচরণ আবার স্বাভাবিক হয়ে আসে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কুলদীপ মীনা জানান, এই অঞ্চলে এর আগে একটি মাত্র পুরুষ হাতির হাতে এত বেশি মানুষের মৃত্যু হয়নি। তিনি বলেন, “এটি একটি অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। এই প্রথম একটি নির্দিষ্ট পুরুষ হাতি এই অঞ্চলে এত সংখ্যক প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
প্রশাসন সূত্রে খবর, হাতির এই তাণ্ডব কেবল একটি জেলাতেই সীমাবদ্ধ নেই। রামগড় ও বোকারো জেলাতেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ঘরবাড়ি ও ফসল নষ্টের পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া হাজারীবাগের টাটিঝরিয়া, চালকুশা এবং বরকাঠার মতো এলাকায় আতঙ্ক চরমে। দুমকা, জামতাড়া ও গিরিডি সহ সাঁওতাল পরগনা অঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পালামু, চাতরা ও সরাইকেলা-খরসাওয়ান এলাকায় হাতির বিচরণ বেড়ে যাওয়ায় অনেক গ্রামবাসী ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
ঝাড়খণ্ডে বর্তমানে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০টি হাতি রয়েছে, যার প্রধান দুটি দল পালামু এবং দক্ষিণ ছোটনাগপুর অঞ্চলে সক্রিয়। বন্যপ্রাণী বিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক (PCCF) জানিয়েছেন যে, বনাঞ্চল সংলগ্ন গ্রামগুলিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হাতিরা বিশেষ করে রাতে খাবার ও জলের সন্ধানে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে।
ঝাড়খণ্ডে মানুষ ও হাতির লড়াই নতুন কিছু নয়, তবে সাম্প্রতিককালে এটি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে হাতির আক্রমণে প্রায় ১,৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬০০-রও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালে এই সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন কর্মকর্তাদের মতে, দ্রুত বন উজাড় হওয়া, স্বাভাবিক বাসস্থানের সংকোচন এবং হাতির চলাচলের পথে মানুষের অনুপ্রবেশই এই সংঘাতের মূল কারণ। খদ্য ও জলের অভাবে হাতিরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে এবং আতঙ্কিত হয়ে মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
