নিজস্ব সংবাদদাতা, জলঙ্গি: ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন ও যাচাই বা এসআইআর (Special Investigation Report)-এর নোটিশ ঘিরে ফের আতঙ্কে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল মুর্শিদাবাদে। এবার প্রাণ হারালেন জলঙ্গি থানার ঘোষপাড়া সর্বোপল্লি গ্রামের বাসিন্দা হাসিনা বিবি (৭৬)। পরিবারের অভিযোগ, কমিশনের ‘তুঘলকি’ সিদ্ধান্তের জেরে উদ্ভূত মানসিক চাপ ও উৎকণ্ঠাই তাঁর মৃত্যুর কারণ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসিনা বিবির ছোট ছেলেকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে হেয়ারিং-এর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের দাবি, নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই ছেলের নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে চরম উৎকণ্ঠায় ভুগছিলেন ওই বৃদ্ধা। দুশ্চিন্তায় খাওয়া-দাওয়াও প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। বুধবার সকালে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে ডোমকল মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, গভীর উদ্বেগের জেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
মৃতার এক পুত্র আক্ষেপের সুরে বলেন, “ছোট ভাইকে নোটিশ দেওয়ার পর থেকে মা সারাক্ষণ অস্থির থাকত। বারবার বলত, নাম কেটে দেবে কি না, কী হবে আমাদের! আমি অনেক বুঝিয়েছি, কিন্তু দুশ্চিন্তা মাকে শেষ করে দিল।” আত্মীয়দের স্পষ্ট দাবি, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম বদল এবং অহেতুক হয়রানির কারণেই এই মর্মান্তিক পরিণতি। তাঁরা এই মৃত্যুর জন্য সরাসরি কমিশনকে দায়ী করেছেন।
ঘটনার পর থেকেই জলঙ্গির ঘোষপাড়া এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কমিশন বারবার নিয়ম পরিবর্তন করছে। কখনও নির্দিষ্ট কাগজের দাবি জানানো হচ্ছে, তো কখনও বলা হচ্ছে সেই কাগজ গ্রহণযোগ্য নয়। এলাকার অনেকেরই দাবি, নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীদের ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কেন্দ্র সরকারের নীতির কারণে সাধারণ ভোটারদের ওপর এই চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ঘোষপাড়া পঞ্চায়েতের প্রধান ফিরোজ আলীর দাবি, যাঁদের ছয়টির বেশি সন্তান রয়েছে, তাঁদের বেছে বেছে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। প্রান্তিক স্তরের মানুষ এতে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। জলঙ্গি ব্লকে এসআইআর-এর আতঙ্কে মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও একই কারণে প্রাণহানির খবর মিলেছিল। ফের এক বৃদ্ধার মৃত্যুতে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হল।
