ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: বেঙ্গালুরুর যানজট এমনিতেই কুখ্যাত। তার ওপর যদি ভিআইপি কনভয়ের জন্য রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কোন চরমে পৌঁছায়, তা আবারও প্রমাণিত হলো। তবে এবার আর মুখ বুজে সহ্য করলেন না এক সাধারণ নাগরিক। গাড়িতে বসা নিজের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর কষ্টের কথা চিন্তা করে এবং ভিআইপি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে খোদ কর্নাটকের রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলটের কনভয় আটকে রাস্তা জুড়েই ধর্নায় বসে পড়লেন এক ব্যক্তি। দেশের সিলিকন ভ্যালিতে ঘটা এই অভিনব ‘গান্ধীবাদী’ প্রতিবাদ ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে তুমুল ভাইরাল।
জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুর ওল্ড এয়ারপোর্ট রোডে। রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলটের মোটরকেড বা কনভয় যাওয়ার জন্য ওই রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল স্তব্ধ করে দিয়েছিল ট্রাফিক পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ জ্যামে আটকে থাকার পর ওই ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে সোজা রাস্তার মাঝখানে গিয়ে বসে পড়েন। তাঁর সাফ কথা— একজন সাধারণ নাগরিকের সময়ের মূল্যও কোনও রাজনেতার চেয়ে কম নয়।
রাস্তার মাঝখানে ওই ব্যক্তি বসে পড়তেই ছুটে আসেন কর্তব্যরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি বলছেন, “আমার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। আমাদেরও তো কাজ আছে, নাকি? আপনারা সিগন্যাল কেন বন্ধ করে রেখেছেন? রাজ্যপাল ভিআইপি বলে কি আমরা কেউ নই।” পাল্টা ট্রাফিক পুলিশ জানায়, “পাশে সরুন। ওখানে গিয়ে দাঁড়ান।” যদিও ওই ব্যক্তি সটান উত্তরে জানান, “না।” ভিডিওতে দেখা গেছে, শেষ পর্যন্ত ভিড়ে ঠাসা রাস্তার পাশ দিয়েই রাজ্যপালের কনভয়টি পার হয়ে যায়। তবে কনভয় চলে যাওয়ার পর পুলিশ কীভাবে ওই ব্যক্তিকে রাস্তা থেকে সরাল বা পরিস্থিতি কীভাবে শান্ত হলো, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনাটি দেশের আমজনতার মনে শিকড় গেড়ে বসা ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’-র বিরুদ্ধে জমে থাকা তীব্র ক্ষোভকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে। কাকতালীয়ভাবে, গত মাসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রীদের এবং সরকারি আধিকারিকদের এই ভিআইপি প্রোটোকল বা আড়ম্বর কমানোর বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, সরকারি প্রোটোকলের নামে দৃশ্যমান ক্ষমতা প্রদর্শন বন্ধ করে সাধারণ মানুষের সুবিধা এবং মিতব্যয়িতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই সরলীকরণের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নিজের কনভয়ের আকারও ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ ও জনভোগান্তি কমাতে বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের ওপর জোর দেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সেই বার্তার পরও রাজ্য স্তরে অতি-প্রোটোকলের কারণে সাধারণ মানুষকে যে কতটা ভুগতে হচ্ছে, বেঙ্গালুরুর এই ঘটনা তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
