নিজস্ব সংবাদদাতা, জলঙ্গি: মুর্শিদাবাদের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছানোর বাবর আলির অসামান্য লড়াই এবার ফুটিয়ে তোলা হবে সিনেমার পর্দায়। ‘বিশ্বের কনিষ্ঠতম প্রধান শিক্ষক’ হিসেবে খ্যাত বাবর আলির জীবনকাহিনী নিয়ে তৈরি হতে চলেছে একটি বলিউড বায়োপিক। খোদ বাবর আলি এই খবর নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, ৯ বছর বয়সটা সাধারণত খেলাধুলা আর আবদারের বয়স। কিন্তু ২০০২ সালে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার ভাবতা গ্রামের এক ৯ বছরের বালক দেখেছিলেন এক অন্যরকম স্বপ্ন। নিজের স্কুল বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় প্রতিদিন অনেক কষ্ট করে বাবরকে যাতায়াত করতে হতো। ফেরার পথে তিনি দেখতেন, তাঁর সমবয়সী দরিদ্র শিশুরা কেউ মাঠে কাজ করছে, কেউবা গবাদি পশু চরাচ্ছে। তাদের অন্ধকার ভবিষ্যৎ বদলাতে নিজের বাড়ির উঠোনে পেয়ারা গাছের তলায় মাত্র ৮ জন বন্ধুকে নিয়ে বাবর শুরু করেছিলেন এক খেলা— ‘স্কুল-স্কুল’ খেলা। চক-বোর্ড কেনার টাকা ছিল না, তাই ভাঙা স্লেট আর খড়ি দিয়েই চলত অক্ষর চেনার পাঠ। সেই দিনের সেই নিছক খেলাটাই আজ এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে। যা শুরু হয়েছিল পেয়ারা গাছের তলায়, আজ তা একটি তিনতলা ভবন, যেখানে ১০০০-এর বেশি ছাত্র-ছাত্রী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষা গ্রহণ করছে।
বাবর আলির এই মহতী উদ্যোগের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। একসময় গ্রামের রক্ষণশীল বড়দের বোঝানো কঠিন ছিল যে কেন মেয়েদের স্কুলে পাঠানো প্রয়োজন। অর্থাভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। কিন্তু বাবর পিছু হটেননি। বিভিন্ন সময় পাওয়া নিজের পুরস্কারের সমস্ত অর্থ তিনি ব্যয় করেছেন স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নে। আজ তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য এটাই, তাঁর নিজের হাতে গড়া পুরোনো ছাত্র-ছাত্রীরাই আজ এই স্কুলের শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। সমাজ গড়ার ভাবনায় বাবর আলির এই কর্মকাণ্ডই এবার জায়গা পেতে চলেছে সিনেমার পর্দায়। এদিন বাবর আলি ‘ডেইলি ডোমকল’-কে বলেন, “আমার জীবনী নিয়ে সিনেমা তৈরির প্রস্তাব এসেছে। বলিউডের একটি নামী প্রোডাকশন হাউসের সাথে আমার কথা হয়েছে। তারা আমার জীবনকাহিনী পর্দায় তুলে ধরতে চায় এবং আমি তাতে সম্মতি দিয়েছি। ছবি নির্মাতারা ইতিমধ্যেই প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তবে যথাসময়ে অফিসিয়াল বিবৃতির মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।”
সম্প্রতি রাজনীতির ময়দানে পা রেখেছেন বাবর আলি। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে জলঙ্গি কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছে তিনি। এই বিষয়ে বাবর আলির স্পষ্ট বক্তব্য, রাজনীতি আমার কাছে শখ নয়, বরং মানুষের সেবা করার একটি বৃহত্তর মাধ্যম। এতদিন নিজের এলাকায় কাজ করেছি, এখন সুযোগ এসেছে গোটা সমাজের মানুষের জন্য বৃহত্তর স্তরে কাজ করার।
