ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া আমরণ অনশন আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে। আন্দোলনের সপ্তম দিনে প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী এবং শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটেছে। শনিবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, গত সাত দিনে ওয়াংচুকের ওজন ৫ কেজিরও বেশি কমে গেছে এবং তাঁর স্বাস্থ্য ক্রমাগত ভেঙে পড়ছে।
শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে সিজেপি-র আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে গত ২৮ জুন থেকে যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসেন সোনম ওয়াংচুক। এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে দেশের শত শত পড়ুয়া, যুব সমাজ এবং সমাজকর্মী শামিল হয়েছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্ট করে অভিজিৎ দিপকে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে দেশজুড়ে ২০ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দিপকে লেখেন, “সোনম স্যারের ওজন ইতিমধ্যে ৫ কেজি কমে গেছে এবং প্রতিটা দিন যাওয়ার সাথে সাথে তাঁর শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে। নিট পরীক্ষা কেলেঙ্কারির কারণে ২০ জন পড়ুয়ার মৃত্যু হওয়ার পরও ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী আর কতদিন অপেক্ষা করবেন?”
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনশনের কারণে ওয়াংচুকের রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর কড়া নজর রাখছেন। আন্দোলনস্থলের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বারবার আবেদন জানানো হয়েছে যেন তারা অবিলম্বে আন্দোলনকারীদের সুনির্দিষ্ট দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনায় বসে।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবিতে গড়ে ওঠা এই ছাত্র আন্দোলন এখন জাতীয় রাজনীতির অলিন্দেও ঝড় তুলেছে। বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা ইতিমধ্যেই যন্তর মন্তরে গিয়ে এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা সাংসদ মহুয়া মৈত্র সশরীরে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে অনশনকারীদের পাশে দাঁড়ান। তিনি নরেন্দ্র মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে অভিযোগ করেন যে, বিজেপি সরকার দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এবং আন্দোলনকারী সমাজকর্মীদের যৌক্তিক উদ্বেগ ও দাবিকে সম্পূর্ণ অবহেলা এবং উপেক্ষা করে চলেছে। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
