ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: এশিয়া-প্যাসিফিক (Asia-Pacific) তথা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে এক মেগা সফরে বেরোচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী সপ্তাহে তিনি ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড—এই তিন দেশে ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন। শুক্রবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছাবেন। সেখান থেকে তিনি যাবেন অস্ট্রেলিয়ায় এবং পরিশেষে ১১ জুলাই নিউজিল্যান্ড সফরের মধ্য দিয়ে তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফরটি শেষ হবে।
শুক্রবার এই সফরসূচি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিদেশ মন্ত্রকের সচিব (পূর্ব) রুদ্রেন্দ্র ট্যান্ডন জানান, মরিশাস ও সেশেলস সফর এবং চলতি সপ্তাহে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নয়াদিল্লি সফরের পর ভারতের কূটনৈতিক ফোকাস এখন ভারত মহাসাগরের পূর্ব সামুদ্রিক অঞ্চল এবং ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির ওপর আরও বেশি কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদী ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তো, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এবং নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। এর পাশাপাশি, এই তিন দেশেই বিশাল সংখ্যক অনাবাসী ভারতীয়দের উপস্থিতির কথা মাথায় রেখে বিশেষ নাগরিক সম্বর্ধনা সভারও আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি আগামী ৮ জুলাই অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অবতরণ করবেন। সেখানে তিনি তৃতীয় ‘ভারত-অস্ট্রেলিয়া বার্ষিক সম্মেলনে’ (India-Australia Annual Summit) অংশ নেবেন। এর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক এবং ঐতিহাসিক মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড (MCG) পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাঁর। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে রিও ডি জেনিরোতে জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সাথে দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কোয়াড জোটের এই দুই সদস্য দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এবারের বৈঠকে জটিল খনিজ, সাইবার নিরাপত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিস্থাপকতা এবং উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
ইন্দোনেশিয়া সফরের মূল কর্মসূচি রাজধানী জাকার্তায় হলেও, প্রধানমন্ত্রী মোদী যোগিয়াকার্তা শহরের ঐতিহাসিক ‘প্রমবানন মন্দির’ প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করবেন। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত এই হিন্দু মন্দির কমপ্লেক্সটির সংরক্ষণে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া যৌথভাবে কাজ করবে। ২০২৫ সালের সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি প্রাবোও যখন ভারতে এসেছিলেন, তখন যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হয়েছিল, এই সফর তারই ধারাবাহিকতা।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের সবচেয়ে ঐতিহাসিক অংশটি হতে চলেছে নিউজিল্যান্ড সফর। বিগত ৪০ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন। গত এপ্রিল মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পরই এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সফরটিকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের প্রতিফলন। এই সফরটি নিউজিল্যান্ড ও ভারতের মধ্যে একটি বিজয়ী অংশীদারিত্ব উদযাপনের বিষয়—যা আমাদের জনগণের সমৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে স্বাগত জানাতে উন্মুখ হয়ে আছি।” কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকের আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, প্রযুক্তি, পর্যটন, খেলাধুলা এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যু স্থান পেতে চলেছে।
