TOP NEWS

রাম মন্দিরের পর এবার বদ্রীনাথ ধাম: দানবাক্সের টাকা তছরূপের অভিযোগে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ

ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে টাকা চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কাঠগড়ায় উত্তরাখণ্ডের বিখ্যাত বদ্রীনাথ ধাম। বদ্রীনাথ মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দানের টাকা ও প্রণামীতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর শুক্রবার একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ‘বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি’।

বিকেটিসি-র সভাপতি হেমন্ত দ্বিবেদী জানিয়েছেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই সংক্রান্ত অভিযোগগুলিকে মন্দির কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে। পুরো বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন কর্মচারীদের কাছ থেকে লিখিত কৈফিয়ত বা স্পষ্টীকরণ চাওয়া হয়েছে।

শুক্রবার ‘ভৈরব সেনা’ নামে একটি স্থানীয় সংগঠন বদ্রীনাথ ধামের প্রণামীতে বড়সড় আর্থিক তছরূপের অভিযোগ তোলে। একই সাথে তারা মন্দির কমিটির চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারীর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়। তবে সামাজিক মাধ্যমে ওই অভিযুক্ত কর্মচারীকে নিজের ‘ব্যক্তিগত সচিব’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার দাবিটিকে সম্পূর্ণ খণ্ডন করেছেন বিকেটিসি সভাপতি হেমন্ত দ্বিবেদী।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, “উক্ত ব্যক্তি আমার ব্যক্তিগত সচিব নন। তিনি বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির একজন স্থায়ী সরকারি কর্মচারী। এর আগে তিনি এই কমিটির তিন প্রাক্তন চেয়ারম্যানের অধীনেও ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন।” তিনি আশ্বস্ত করেন, তদন্তের পর কোনো কর্মচারী দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক সোহন সিং রাঙড় জানিয়েছেন, সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগটি সামনে আসার পরেই বদ্রীনাথ মন্দির চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে ক্যামেরার ফুটেজগুলি খুব একটা স্পষ্ট নয়। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই বিকেটিসি চেয়ারম্যানকে সবটা জানানো হয়েছে। সিইও সোহন সিং আরও জানান, “চেয়ারম্যানের নির্দেশ অনুযায়ী অভিযুক্ত কর্মীদের শোকজ করা হচ্ছে। একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই কমিটি গঠন হওয়া মাত্রই সমস্ত নথি, উপলব্ধ প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়ান রেকর্ড করে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবে।”

বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি তদন্তে কোনো অনিয়ম বা প্রতিকূল তথ্য সামনে আসে, তবে দোষীদের বিরুদ্ধে ‘শ্রী বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি আইন, ১৯৩৯’ এবং সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনি ও বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যেহেতু এই বিষয়টি দেশের কোটি কোটি সনাতনপন্থী ও ভক্তদের ধর্মীয় আবেগের সাথে জড়িত, তাই কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে কোনো ধরণের বিভ্রান্তিকর বা ভিত্তিহীন অভিযোগ না ছড়ানোর জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছেন মন্দির কমিটির প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!