TOP NEWS

জলঙ্গিতে অক্ষত ঘাসফুল: ২১ হাজার ভোটে জয়ী ‘মাস্টারমশাই’ বাবর আলী

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলঙ্গি: মুর্শিদাবাদ জেলার অন্যতম কেন্দ্র ৭৬-জলঙ্গিতে শেষ হাসি হাসল তৃণমূল কংগ্রেসই। সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হতেই দেখা গেল, বিরোধীদের হেলায় হারিয়ে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী বাবর আলী। এলাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ, তথা পেশায় শিক্ষক বাবর আলীর এই জয়ে জলঙ্গি জুড়ে খুশির হাওয়া বইছে তৃণমূল শিবিরে।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জলঙ্গি কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বাবর আলী বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এই কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বামেরা (সিপিআইএম)। তথ্য বলছে, তৃণমূল কংগ্রেস ৮৮,৩১৮টি ভোট, সিপিআইএম (CPIM) ৬৬,৯২১টি ভোট, বিজেপি (BJP) ৫১,৩৭৭টি ভোট এবং কংগ্রেস (INC) ৩৬,৩৫৩টি ভোট পেয়েছে। অঙ্কের হিসেবে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিআইএম প্রার্থীকে ২১,৩৯৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন তৃণমূলের বাবর আলী। বিজেপির ঝুলিতে ৫১ হাজারের বেশি ভোট গেলেও তারা তৃতীয় স্থানেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। অন্যদিকে, একসময়ের শক্তিশালী কংগ্রেস এই কেন্দ্রে কার্যত ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে ৩৬ হাজার ভোট পেয়ে।

জয়ের খবর আসতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। সবুজ আবির মেখে আনন্দ উল্লাস শুরু হয়। জয়ী প্রার্থী বাবর আলী তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, এই জয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের জয়। জলঙ্গির মানুষ সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে এবং উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আগামী দিনে মাস্টারমশাই হিসেবে নয়, এলাকার মানুষের সেবক হিসেবে আমি কাজ করে যাব।

স্থানীয় মহলে বাবর আলী ‘মাস্টারমশাই’ হিসেবেই পরিচিত। তাঁর বিনয়ী স্বভাব এবং শিক্ষকতার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ অত্যন্ত গভীর। বিশ্লেষকদের মতে, শাসক দলের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পাশাপাশি বাবর আলীর স্বচ্ছ ভাবমূর্তিও এই বিপুল জয়ের নেপথ্যে বড় ভূমিকা পালন করেছে। জলঙ্গির মতো সীমান্তবর্তী এলাকায় তৃণমূলের এই জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

জলঙ্গিতে একসময়ে বামেদের দাপট থাকলেও, এবার তৃণমূলের সঙ্গে লড়াইয়ে তারা পরাজিত হয়েছে। তবে ৬৬ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা বামেদের জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হলেও জয়ের ধারেকাছে পৌঁছাতে পারেননি তাঁরা। বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক এই কেন্দ্রে কিছুটা বাড়লেও তা তৃণমূলের দুর্গে ফাটল ধরাতে পারেনি। অন্যদিকে, কংগ্রেসের সাংগঠনিক দুর্বলতা এই ফলাফলে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জলঙ্গির সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক ভোটাররা এবার ঢেলে ভোট দিয়েছেন তৃণমূলের প্রতীকে। বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং ‘স্বাস্থ্যসাথী’র মতো জনমুখী প্রকল্পের সুফল এই কেন্দ্রে সরাসরি ব্যালট বক্সে প্রতিফলিত হয়েছে।

ভোট গণনার শুরু থেকেই বাবর আলী লিড ধরে রেখেছিলেন। প্রতিটি রাউন্ড শেষে ব্যবধান কেবল বেড়েছে। অবশেষে ২১ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ের শংসাপত্র হাতে নিয়ে বিধানসভার পথ নিশ্চিত করলেন ‘মাস্টারমশাই’। ডোমকল মহকুমার অন্যান্য কেন্দ্রে যখন বাম-কংগ্রেসের সক্রিয়তা দেখা গিয়েছে, সেখানে জলঙ্গিতে ঘাসফুলের এই দাপুটে জয় নিশ্চিত স্বস্তির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!