TOP NEWS

কর্মস্থলে ফেরার টান: ট্রেনের বিকল্প হিসেবে বাসকেই বেছে নিচ্ছেন শ্রমিকরা

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলঙ্গি: মিলছে না ট্রেনের টিকিট। অগ্রিম বুকিং দেখাচ্ছে মাসখানেকের বেশি। এদিকে ঈদের মরসুম শেষ হতেই ফুরিয়ে এসেছে জমানো টাকাও। তাই অগত্যা ট্রেন ছেড়ে বাসেই ভরসা করছেন ডোমকল মহকুমার পরিযায়ী শ্রমিকরা। তাঁদের কেরলে পৌঁছে দিতে এবার গ্রামের অন্দরমহল পর্যন্ত ঢুকে পড়ছে দক্ষিণভারতগামী দূরপাল্লার বাস। প্রসঙ্গত, ডোমকল মহকুমার রানিনগর, জলঙ্গি, সাগরপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার শ্রমিক কেরলে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। নির্মাণ শ্রমিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তাঁরা। তুলনামূলকভাবে ভালো মজুরি পাওয়ায় বছরের বেশিরভাগ সময়ই কেরলে কাটান এই এলাকার শ্রমিকরা। তবে বছরে দু’বার, বিশেষ করে ঈদের সময় বাড়ি ফেরেন তাঁরা।

এসআইআর, ভোট ও শেষে ঈদের মরসুম কাটিয়ে এখন আবার কর্মস্থলে ফেরার পালা। কিন্তু সেখানেই দেখা দিয়েছে বড় সমস্যা। কেরল ও দক্ষিণভারতগামী ট্রেনগুলিতে এখন তীব্র ভিড়। অনেক ট্রেনেই দেড় মাস বা তারও বেশি সময়ের অগ্রিম বুকিং দেখাচ্ছে। ফলে যাঁরা আগে থেকে টিকিট কাটেননি, তাঁদের পক্ষে ট্রেনে যাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিকে সামনে রেখে কেরলের বিভিন্ন পরিবহণ সংস্থা স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে সরাসরি ডোমকল মহকুমা থেকে বাস পরিষেবা চালু করেছে। শ্রমিকদের সুবিধার্থে গ্রামাঞ্চল থেকেই যাত্রী তোলা হচ্ছে। এসি ও নন-এসি দুই ধরনের বাসই চলাচল করছে। ফলে ট্রেনের টিকিট না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে বাসের টিকিট কাটছেন।স্থানীয় পরিবহণ ব্যবসায়ীদের দাবি, কেরলগামী বাসগুলিতে ব্যাপক সাড়া মিলছে। প্রতিদিনই ভালো সংখ্যক বুকিং হচ্ছে। বিশেষ করে ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার মরসুমে চাহিদা আরও বেড়েছে। এক পরিবহণ ব্যবসায়ী বলেন, অনেক শ্রমিক ট্রেনের টিকিট পাচ্ছেন না। তাই বাসে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। প্রায় ৭০ থেকে ৭২ ঘণ্টার যাত্রার জন্য মাথাপিছু তিন হাজার টাকার মতো ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এসি বাস হলে খরচ আরও কিছুটা বেশি। তবুও শ্রমিকরা বাসেই যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

জলঙ্গির বাসিন্দা তথা পরিযায়ী শ্রমিক সাফি ইসলাম বলেন, ভোটের সময় বাড়ি এসেছিলাম। এখন আবার কেরলে কাজে ফিরতে হবে। কিন্তু ট্রেনের টিকিট পাচ্ছি না। দেড় মাস পর্যন্ত ওয়েটিং ও অগ্রিম বুকিং দেখাচ্ছে। এতদিন বাড়িতে বসে থাকলে সংসার চলবে না। তাই বাধ্য হয়ে ডোমকল থেকেই বাসের টিকিট কেটেছি। বুধবার কেরলের উদ্দেশে রওনা দেব। ট্রেনে টিকিট না পাওয়ার এই সমস্যার জেরে আপাতত বাসই ভরসা হয়ে উঠেছে ডোমকল মহকুমার বহু পরিযায়ী শ্রমিকের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!