ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: দেশজুড়ে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির অন-স্ক্রিন মার্কিং পোর্টাল বিপর্যয় নিয়ে চলমান তীব্র বিতর্কের মাঝেই দেশে আরও একটি মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ঘিরে তৈরি হলো বড়সড় বিতর্ক। এবার প্রশ্নফাঁস এবং চরম অব্যবস্থাপনার গুরুতর অভিযোগে পুনের ঐতিহ্যবাহী ‘ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া’ (এফটিআইআই)-এর প্রবেশিকা পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলো। এফটিআইআই কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, গত ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত মূল প্রবেশিকা পরীক্ষার সময় দিল্লির পরীক্ষাকেন্দ্রে “মারাত্মক পরিকাঠামো ও পরিচালনগত বিপর্যয়” দেখা দেওয়ায় এই পুনর্নির্বাচন বা রে-টেস্ট নেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের এই ‘কারিগরি ত্রুটির’ যুক্তি মানতে নারাজ পরীক্ষার্থীরা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োতে পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ করতে দেখা গেছে, দিল্লির একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখার পর তাঁদের আসল প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে সেটির ‘ফটোকপি’ বা জেরক্স কপি সরবরাহ করা হয়েছিল। এক ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা গেছে, এফটিআইআই-এর অ্যানিমেশন অ্যান্ড ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস ডিজাইন বিভাগের প্রধান তথা দিল্লির বেগমপুর কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মান্দার দিগরাজকর পরীক্ষার্থীদের জানাচ্ছেন যে পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়েছে। তবে ছাত্র-ছাত্রীরা এর কারণ জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনও ব্যাখ্যা দিতে অস্বীকার করেন। এই ঘটনার পর, গত ৩০ এপ্রিল এফটিআইআই-এর পক্ষ থেকে দেশজুড়ে ফের পরীক্ষা নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। আগামী ১২ জুলাই এই পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এই সামগ্রিক ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে পুনে ফিল্ম ইনস্টিটিউটের ছাত্র সংসদ। ‘এফটিআইআই স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ সামাজিক মাধ্যমে একটি কড়া বিবৃতি জারি করে এই প্রবেশিকা পরীক্ষার পরিচালন ব্যবস্থার তীব্র নিন্দা করেছে। বিবৃতিতে ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নজরে এসেছে যে, দেশের একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের এফটিআইআই প্রবেশিকা পরীক্ষার সততা ও গোপনীয়তা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। এই পরীক্ষায় যে ধরণের চরম অসদাচরণ এবং অব্যবস্থাপনার তথ্য নথিবদ্ধ হয়েছে, এফটিআইআইএসএ তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু সমাধানের জন্য এফটিআইআই-এর সমস্ত সাধারণ পড়ুয়া প্রশাসনকে সব রকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।” প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় এই ধরণের জালিয়াতি ও অব্যবস্থাপনার ঘটনা দেশের সামগ্রিক পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
