ডেইলি ডোমকল, ইম্ফল: হিংসার আগুনে জ্বলেছে মণিপুর। ২০২৩ সাল থেকে কুকি ও মেতেই জনগোষ্ঠীর সংঘর্ষে লাগাতার অশান্তি চলছে মণিপুরে। গত ২ বছর ধরে চলা সন্ত্রাসে সেখানে মৃত্যু হয়েছে দু’শোর বেশি মানুষের। চলতি বছরের শুরুতে নতুন করে মণিপুরে হিংসা ছড়ানোয় ফেব্রুয়ারি মাস থেকে জারি রয়েছে রাষ্ট্রপতি শাসন। কার্যত সেনার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে গোটা মণিপুর। ধীরে ধীরে শান্তি ফিরছে রাজ্যে। এহেন পরিস্থিতিতে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে রাজ্যে জাতিগত হিংসার জেরে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১০ হাজার মানুষকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে বলে জানালেন মণিপুরের মুখ্য সচিব (সিএস) পুনীত কুমার গোয়েল। মঙ্গলবার তিনি জানান, কেন্দ্রের ঘোষিত ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের মণিপুর বাজেটে অন্তর্ভুক্ত ৫৭৩ কোটি টাকার পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন প্যাকেজের আওতায় অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষদের (IDP) ধাপে ধাপে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে রাজ্যে অন্তত ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
মুখ্য সচিব বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষদের কল্যাণ ও মর্যাদা রক্ষায় রাজ্য সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এক বিবৃতিতে গোয়েল বলেন, “২০২৪ সালের নভেম্বর মাসের পর থেকে হিংসাত্মক ঘটনার উল্লেখযোগ্য হ্রাস সরকারের সামনে বাস্তুচ্যুতদের ধাপে ধাপে পুনর্বাসনের সুযোগ এনে দিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্বয়ং বাস্তুচ্যুতদের সহযোগিতায় এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।” গোয়েলের কথায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সহযোগিতায় ত্রাণ শিবিরগুলিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যে একটি রাজ্যস্তরীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার সভাপতিত্ব করছেন তিনি নিজে। এই কমিটি বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন সংক্রান্ত সমস্ত কাজের তদারকি, সমন্বয় এবং সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। মুখ্য সচিবের মতে, “এখনও পর্যন্ত ২,২০০-র বেশি পরিবারের প্রায় ১০ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, আরও প্রায় ৪,০০০ বাড়ি বিভিন্ন পর্যায়ে নির্মাণাধীন রয়েছে, যা পুনর্বাসনের জন্য ব্যবহার করা হবে।”
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সিএস বলেন, রাজ্য সরকার রাজ্য পুলিশ, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী, আসাম রাইফেলস ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় গ্রামগুলিতে নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করছে, যাতে পরিবারগুলি নিরাপদে ফিরে যেতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ফিরে আসা পরিবারগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তড়িঘড়ি করে পুনর্বাসনের জন্য নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও আস্থাবৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি—তা ছাড়া পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এগোনো উচিত নয়।”
