ডেইলি ডোমকল, মুম্বই: ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’দের চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পুশইন (পাঠানো) করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস। শনিবার তিনি বলেছেন, বিজেপি-নেতৃত্বাধীন মহাযুতি মুম্বই থেকে এমন একজন মেয়র পাবে, যিনি মারাঠি ও হিন্দু হবেন। মুম্বইকে দেশের সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে ১৭ হাজার কোটি টাকার পরিবেশ বাজেট গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে; শীঘ্রই তার বিস্তারিত জানানো হবে।
আগামী ১৫ জানুয়ারি ব্রিহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি) নির্বাচনের আগে বিজেপি–শিবসেনা জোটের প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে (ওরলি) বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফড়ণবিস বলেন, এই নির্বাচন মহানগরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এবং মুম্বইয়ে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিকের জন্য শহরেই বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মুম্বইকে নিরাপদ করতে আমরা অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠাব। গত সাত মাসে বহু বাংলাদেশিকে ইতিমধ্যেই মুম্বই থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সব অনুপ্রবেশকারী বহিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলবে।”
মেয়র পদ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে ও আমি স্পষ্ট করে দিয়েছি—মুম্বইয়ের মেয়র হবেন মারাঠি ও হিন্দু। বোরখা পরা মহিলা মেয়র হওয়ার কথা কেউ কেউ তুলেছিলেন, কিন্তু যারা মারাঠি গর্বের কথা বলেন, তারা আপত্তি তোলেননি। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার।”
উল্লেখ্য, মুম্বই বিজেপি সভাপতি অমিত সাতমের ‘কোনও খান মেয়র হবেন না’ মন্তব্য ঘিরে সম্প্রতি বিতর্ক তৈরি হয়। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বিরোধী শিবসেনা (ইউবিটি) ও মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)। পরে এমএনএস প্রধান রাজ ঠাকরে ঘোষণা করেন, “মুম্বইয়ের মেয়র মারাঠিই হবেন।”
১৫ জানুয়ারি বিএমসি-সহ ২৯টি পুরসভায় ভোট হবে, গণনা ১৬ জানুয়ারি। বিএমসিতে মোট ২২৭টি ওয়ার্ড রয়েছে। বিরোধীদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোটের আগে ‘বড় বড় দাবি’ শোনা যায়, কিন্তু মহাযুতি বাস্তবসম্মত বিকল্প দিচ্ছে। বিনামূল্যের বিদ্যুৎ ও সম্পত্তি কর ছাড়ের প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোট অযৌক্তিক ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নে বিশ্বাসী। মুম্বইকে মহারাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ প্রসঙ্গে ফড়ণবিস বলেন, “নির্বাচন এলেই এই অভিযোগ ওঠে। আমি ফেরার পথে দেখেছি—মুম্বই মহারাষ্ট্রেই আছে এবং থাকবেই। নির্বাচন কাছে এলে কারও কারও ভারসাম্য নষ্ট হয়।”
ভাষাগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে প্রচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেউই মুম্বইকে রাজ্য থেকে আলাদা করতে পারে না; উন্নয়নই মুম্বইবাসীর চাওয়া। তাঁর দাবি, আগের বিএমসি শাসনে নিষ্ক্রিয়তার কারণে বহু মিলশ্রমিক শহর ছাড়তে বাধ্য হন। বিএমসির বিপুল স্থায়ী আমানতের উপযোগিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “৭০ হাজার কোটি টাকা এফডিতে রেখে কী লাভ, যদি মরিয়া হয়ে মারাঠিদের মুম্বই ছাড়তে হয়?”
ওরলির বিডিডি চাউল পুনর্গঠনের উদাহরণ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগে ১০০ বর্গফুটে থাকা মারাঠি পরিবারগুলিকে বিনা অতিরিক্ত খরচে ৫০০ বর্গফুটের ঘর দেওয়া হয়েছে—যাতে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ উপকৃত। “এভাবেই আমরা মুম্বইবাসীর জন্য কাজ করতে চাই। বস্তিবাসীদেরও মানসম্মত বাসস্থান দেওয়া হবে,” তিনি বলেন। মেট্রো প্রকল্প প্রসঙ্গে ফড়ণবিস জানান, ৪৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রো নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা রয়েছে; এর মধ্যে ১৫০ কিলোমিটার ইতিমধ্যেই চালু। প্রতি বছর ৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার করে লাইন যুক্ত হচ্ছে, যাতে মুম্বই ও এমএমআর জুড়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সর্বোচ্চ ৫৯ মিনিটে যাতায়াত সম্ভব হয়।
