ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: চুরির অভিযোগে বেআইনিভাবে দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি থাকা এক নাবালককে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পাটনা হাই কোর্ট। আদালত বিহার সরকারকে এক মাসের মধ্যে এই ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করতে বলেছে।
বিচারপতি রাজীব রঞ্জন প্রসাদ ও বিচারপতি রীতেশ কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ মামলার তদন্তকারী আধিকারিকের (আইও) তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছে, কোনও উপযুক্ত প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও নাবালককে প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতও “যান্ত্রিকভাবে” আবেদনকারীকে জেলে পাঠিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে আদালত। হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, মামলা লড়তে পরিবারের যে খরচ হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে রাজ্য সরকারকে আবেদনকারীকে অতিরিক্ত ১৫ হাজার টাকা দিতে হবে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ১১ জুলাই বিহারের মধেপুরা জেলার পুরাইনি থানায় ১৬ বছরের ওই নাবালকসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের হয়। অভিযোগ ছিল, জমি সংক্রান্ত বিবাদকে কেন্দ্র করে একটি পঞ্চায়েত বৈঠকের সময় রুপোর চেন ও অন্যান্য অলঙ্কার লুট করা এবং হামলার ঘটনা ঘটে।
হাই কোর্টের নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৪ জন অভিযুক্তের মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়নি। তা সত্ত্বেও কোশি রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশে তদন্তকারী আধিকারিক ১০ অক্টোবর অভিযোগগুলোকে “সত্য ধরে নিয়ে” ওই ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেন। এর আগে একজন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়েছিল এবং তিনজন পলাতক ছিল। এদিন আদালত সাফ জানায়, “একজন নাবালক ছেলে প্রায় আড়াই মাস ধরে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করেছে—এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাজ্য সরকারকে এক মাসের মধ্যে আবেদনকারীকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।”
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, শুনানির সময় গত ২৪ নভেম্বর আবেদনকারীর পরিবার রিট আবেদনের মাধ্যমে জানায় যে জন্ম শংসাপত্র অনুযায়ী ওই ছেলে নাবালক। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তকারী আধিকারিকরা “সম্পূর্ণভাবে অবগত ছিলেন” যে ওই ১০ জন অভিযুক্তকে আগেই ‘বিচারের জন্য প্রেরণ করা হয়নি’। তা সত্ত্বেও তাঁরা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পুনরায় তদন্তের অনুমতির জন্য আবেদন করেন। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, “তদন্তকারী আধিকারিক আবেদনকারীর বিরুদ্ধে নতুন কোনও উপাদান সংগ্রহ করতে পারেননি। তবুও ২৫ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করে বয়স ১৯ বছর দেখিয়ে আদালতে পেশ করা হয় এবং সেখান থেকে তাঁকে জেলে পাঠানো হয়। অভিযোগগুলোকে সত্য ধরে নিয়ে তদন্ত করার জন্য কোশি রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশ ফৌজদারি আইনের মৌলিক নীতি—নির্দোষ ধরে নেওয়ার নীতির পরিপন্থী।”
বিচারপতি রাজীব রঞ্জন প্রসাদ ও বিচারপতি রীতেশ কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, “মাননীয় ম্যাজিস্ট্রেট এই বিষয়গুলো খতিয়ে না দেখেই যান্ত্রিকভাবে আবেদনকারীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।” চলতি বছরের ৯ জানুয়ারির রায়ে বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পুলিশ আধিকারিকদের কার্যকলাপে আবেদনকারীর “জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। কিশোর ন্যায় (যত্ন ও সুরক্ষা) আইন, ২০১৫-এর বিধান সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে আবেদনকারীকে জেলে বন্দি রাখা হয়েছিল।” ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতিরা বলেন, এটি আবেদনকারীর বেআইনি গ্রেপ্তারের স্পষ্ট উদাহরণ। এমন পরিস্থিতিতে এই আদালত, একটি সাংবিধানিক আদালত হিসেবে, নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না।
