ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে এবার প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা। শুক্রবার ‘নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভারতীয় গণতন্ত্র’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় তিনি দাবি করেন, বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, কারণ এই প্রক্রিয়া চলাকালীনই নির্বাচন কমিশন একাধিকবার নিয়ম ও পদ্ধতি বদলেছে—যা থেকে স্পষ্ট হয় যে গোটা উদ্যোগটি যথাযথভাবে পরিকল্পিত ছিল না।
বিহার মডেলে ত্রুটি ও নাগরিকত্ব বিতর্ক
বিহারের এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে লাভাসা জানান, নির্বাচন কমিশন মাঝপথে বারবার নিয়ম পরিবর্তন করায় বোঝা গিয়েছে, যে বিষয়টি নিয়ে আগে থেকে সঠিক পরিকল্পনা ছিল না। বিশেষ করে ভোটারদের ২০০৩ সালের আগের ও পরের—এই দুই ভাগে ভাগ করা নিয়ে তিনি আপত্তি জানান। লাভাসার মতে, কমিশনের ব্যবহৃত শব্দচয়ন এমন একটি ইঙ্গিত দিয়েছিল যেন ২০০৩ সালের পরের ভোটারদের নতুন করে নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন অতীতে কখনও এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করেনি। এটি অভূতপূর্ব এবং এর ফলে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।”
বাংলার ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি’ ও ফর্ম বিভ্রাট
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ভোটার তালিকায় যে ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি’ বা যুক্তিগত অসঙ্গতির কথা শোনা যাচ্ছে, তার নেপথ্যে কমিশনের দেওয়া ‘প্রি-ফিল্ড’ (আগে থেকে পূরণ করা) ফর্মকে দায়ী করেছেন লাভাসা। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কমিশন যখন আগে থেকে পূরণ করা ফর্ম ভোটারদের দিচ্ছে, তখন কমিশনের নিজস্ব ডেটাবেসে থাকা ভুলগুলোও সেই ফর্মে চলে আসছে। ভোটারদের কাজ শুধু সেই ফর্মে সই করে জমা দেওয়া, ফলে তাঁদের তথ্য সংশোধন করার কোনো সুযোগ থাকছে না। এর ফলে ডেটাবেসের পুরনো ভুলগুলোই বারবার থেকে যাচ্ছে এবং ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি’ বা অসঙ্গতি তৈরি হচ্ছে।
কমিশনের প্রশংসা ও স্বচ্ছতা
তবে একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের প্রশংসাও করেন প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার। লাভাসার কথায়, নির্বাচন কমিশন এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যার মানসম্মত কার্যপ্রণালি রয়েছে এবং যা সাধারণত স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে।
‘নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভারতীয় গণতন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেডিইউ (JD-U) নেতা কে.সি ত্যাগী এবং ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস’ (ADR)-এর প্রধান অনিল বর্মা। এসআইআর এবং অন্যান্য নির্বাচনী ইস্যুতে আদালতে দায়ের করা তাঁদের বিভিন্ন পিটিশনের কথা তুলে ধরেন এডিআর প্রধান। নির্বাচনমুখী বাংলায় যখন ভোটার তালিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তখন প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনারের এই পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
