ডেইলি ডোমকল, তেহরান: ইরানে সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও বিক্ষোভের নেপথ্যে সরাসরি আমেরিকার হাত রয়েছে বলে তোপ দাগলেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। রবিবার এক দীর্ঘ ভাষণে তিনি দাবি করেন, এই ‘বিদ্রোহ’ বা ‘সেডিশন’ সম্পূর্ণভাবে আমেরিকান পরিকল্পনা ও তাদের মদতেই পরিচালিত হয়েছে।
আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদী চক্রান্ত ও আধিপত্যের রাজনীতি
খামেনি তাঁর ভাষণে দাবি করেন, গত ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি স্পষ্টভাবে বলতে পারেন যে আমেরিকার মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে ‘গিলে খাওয়া’। তিনি বলেন, “ইসলামি বিপ্লবের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এই দেশের ওপর যে আধিপত্য তারা কায়েম করেছিল, তা দেশের মানুষ, যুবসমাজ এবং সর্বস্তরের জনগণ চুরমার করে দিয়েছিল। কিন্তু প্রথম দিন থেকেই তারা সেই হারানো আধিপত্য পুনরুদ্ধারের চক্রান্ত করছে। তারা আবারও ইরানকে তাদের সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়।” খামেনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং এটি আমেরিকার দীর্ঘকালীন রাষ্ট্রীয় নীতি।
কেন ইরান আমেরিকার চক্ষুশূল?
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মতে, ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অভাবনীয় অগ্রগতি আমেরিকানদের কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “এই ধরনের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এবং দ্রুত উন্নতি করতে থাকা একটি দেশকে আমেরিকা সহ্য করতে পারছে না।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ তকমা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি ‘অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে খামেনি বলেন, “এবারের অস্থিরতা পূর্বের সব ঘটনা থেকে আলাদা। কারণ এবার খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজে ব্যক্তিগতভাবে উসকানি ও লুটপাটে মদত দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে দাঙ্গাকারীদের উৎসাহিত করেছেন এবং সামরিক সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন।” খামেনির অভিযোগ, ট্রাম্প সামান্য কিছু ধ্বংসকারী, অগ্নিসংযোগকারী ও খুনিকে ‘ইরানের জনগণ’ হিসেবে উপস্থাপিত করে গোটা ইরানি জাতির অবমাননা করেছেন। তিনি দাবি করেন, এর স্বপক্ষে তাঁর কাছে যথেষ্ট নথিপত্র এবং প্রমাণ রয়েছে।
ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করার দাবি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করেন যে, তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েত এই চক্রান্তের ‘পিঠ ভেঙে দিয়েছে’। তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, ইরানি জাতি আমেরিকাকে পরাজিত করেছে। আমেরিকা অনেক বড় লক্ষ্য নিয়ে এই অস্থিরতার প্রস্তুতি নিয়েছিল, কিন্তু তারা সফল হয়নি। তবে কেবল আগুন নেভানোই যথেষ্ট নয়, এর জন্য আমেরিকাকে আন্তর্জাতিক স্তরে জবাবদিহি করতে হবে।”
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ: অপরাধীদের রেহাই নেই
যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে খামেনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছি না, আমাদের তেমন কোনো অভিপ্রায় নেই। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধীদের আমরা ছেড়ে দেব না। সঠিক পদ্ধতিতে এদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।” বক্তব্যের শেষে তিনি এক আশাবাদী হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “ঐশ্বরিক সাফল্যে ইরানি জাতি যেভাবে এই অস্থিরতা দমন করেছে, ঠিক সেভাবেই তারা ষড়যন্ত্রকারীদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেবে।”
