নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: ছ’মাস আগে অবসর নিয়েছেন একজন চিকিৎসক। ফলে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসক মাত্র একজন। সেই চিকিৎসকেও সপ্তাহে তিন দিন ছুটে যেতে হয় পাশের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডিউটি দিতে। আর তার জেরে ‘জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ’-এর মতোই পশুর রোগ দেখা থেকে শুরু করে আশপাশ পরিষ্কার—সবই সামলাতে হচ্ছে একমাত্র গ্রুপ-ডি কর্মীকে। নেই অন্য কোনও কর্মীও। ব্লকের ছোটখাটো প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্র নয়—এই করুণ হাল ডোমকলের রাজ্য প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রেরই। তাই গবাদি পশুর রোগ নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার মানুষজন।
প্রসঙ্গত, ডোমকলের বহু পরিবার গবাদি পশু পালনের ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করে। গরু, ছাগল, মহিষ—বেশিরভাগ বাড়িতেই এক বা একাধিক পশু রয়েছে। ওই সব গবাদি পশুর স্বাস্থ্য পরিষেবার বিষয়টি মাথায় রেখে বাম আমলে প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী আনিসুর রহমানের উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল এই রাজ্য প্রাণী হাসপাতাল। বিশাল বিল্ডিং, অস্ত্রপ্রচার থেকে ময়নাতদন্ত—সব কিছুরই পরিকাঠামো রাখা হয়েছিল। প্রথম দিকে পরিষেবাও ছিল প্রশংসনীয়। কিন্তু বছর গড়াতেই ধীরে ধীরে অবনতি শুরু হয়। কয়েক বছর ধরে মাত্র দু’জন চিকিৎসককে নিয়েই চলছিল পরিষেবা। এরমধ্যে গত জুলাই মাসে অবসর নিয়েছেন তাঁদের একজন। ফলে চিকিৎসকের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র এক জনে। কিন্তু সমস্যার এখানেই শেষ নয়—আশপাশের প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতেও চিকিৎসকের সংকট। তাই ডোমকলের ওই হাসপাতালের চিকিৎসককে সপ্তাহে তিন দিন অন্যত্র ডিউটি করতে হয়। আর সেই সময় রাজ্য প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালায় একমাত্র গ্রুপ-ডি স্টাফ। রোগী দেখা থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা—সবই তারই দায়িত্বে এসে পড়ে।
এদিন বাড়ির ছাগলটিকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন ডোমকলের লুৎফর শেখ। তিনি বলেন, ছেলের ছাগলটা খুব অসুস্থ ছিল। পাড়ার ডাক্তার দেখেও সারাতে পারেনি। সবাই বলল এখানে আনতে—ভালো ডাক্তার আছে। কিন্তু এসে শুনছি গ্রুপ-ডি স্টাফই পশু দেখছে! রাগে ছাগল নিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম। নামটা বড়—কাজের কাজ কিছুই নেই। অন্য এক যুবক বলেন, এত বড় রাজ্য হাসপাতাল, অথচ চিকিৎসক একজন! পরিষেবা নেই, দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এক গ্রুপ-ডি স্টাফ—যাঁর কোনও পেশাগত প্রশিক্ষণ নেই। তিনি রোগ নির্ণয় করবেন কীভাবে? যদিও গ্রুপ-ডি কর্মী মাসুদ আলম স্বীকার করেন, হ্যাঁ, আমি গ্রুপ-ডি হিসেবেই নিযুক্ত। চিকিৎসক যখন অন্য হাসপাতালে ডিউটিতে যান, তখন পশু দেখার কাজ আমাকে সামলাতে হয়।
ডোমকলের বিএলডিও মহম্মদ তারিখ ইকবাল বলেন, একজন চিকিৎসক অবসর নিয়েছেন। যে একজন রয়েছেন, তাঁকে সপ্তাহে তিন দিন অন্যত্র ডিউটি করতে হয়। সেই সময় আমাদের গ্রুপ-ডি স্টাফই হাসপাতালের দায়িত্ব সামলান। পাশাপাশি আমি প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে বিএডিও অফিসে পরিষেবা দিই। আমরা অস্ত্রপ্রচার, ময়নাতদন্তের বিষয়টি স্বাভাবিক রেখেছি। পুরো বিষয়টি ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
