TOP NEWS

ডোমকলে ৩৬ বছর বয়সী মহিলার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার, নৃশংস খুনে তীব্র চাঞ্চল্য এলাকায়

(ঘটনাস্থলে ডোমকল থানার পুলিশ। || নিজস্ব চিত্র)

নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: মুর্শিদাবাদের ডোমকলে এক মহিলাকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল। বুধবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে ডোমকল থানার হারুরপাড়া এলাকায়। মৃত মহিলার নাম কাজলা বিবি (৩৬)। বাড়ির অদূরে এক মহিলার এই রহস্যমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে ওই মহিলাকে এমন নৃশংসভাবে খুন করল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার খবর পেয়ে ডোমকল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সাতসকালে হারুরপাড়া এলাকার একটি পুকুরের ধারে ওই মহিলার রক্তাক্ত ও নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এক স্থানীয় বাসিন্দা। গ্রামীণ এলাকায় সকালে এই খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে শোরগোল পড়ে যায়। দলে দলে গ্রামবাসীরা সেখানে ছুটে আসেন। খবর দেওয়া হয় ডোমকল থানায়। স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর সেখ জানান, “সকালে আচমকাই গ্রামে ব্যাপক চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে আমরা পুকুরধারের দিকে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি কাজলা বিবির দেহ মাটিতে পড়ে রয়েছে। মৃতের মাথায় ও শরীরে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সেই ক্ষত এবং রক্তের দাগ দেখে মনে হচ্ছে, তাকে কোনও ভারী অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়েছে। আমরা তড়িঘড়ি পুলিশে খবর দিই এবং পুলিশ এসে দেহটি নিয়ে যায়।”

স্থানীয় সূত্রে কাজলা বিবির ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর আগে তার বিয়ে হয়েছিল। তবে বিয়ের পর থেকেই স্বামীর বাড়িতে সাংসারিক অশান্তি ও বিবাদের জেরে তিনি স্বামীর ঘর ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হন। এরপর থেকে বাপের বাড়ি এলাকাতেই দুই সন্তানকে নিয়ে একা থাকতেন ৩৬ বছর বয়সী কাজলা বিবি।

এই মর্মান্তিক পরিণতির খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। কাজলা বিবির ভাই বলেন, “সকালে আচমকাই ফোনে বোনের মৃত্যুর খবর পাই। প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। ছুটে এসে দেখি পুকুরের ধারে বোনের রক্তাক্ত দেহটা পড়ে রয়েছে। কে বা কারা ওকে এভাবে মেরে ফেলল, সে বিষয়ে আমরা এখনও কিচ্ছু বুঝতে পারছি না। আমাদের কারও সঙ্গে তেমন কোনও শত্রুতাও ছিল না। আমরা চাই পুলিশ প্রশাসন গোটা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দেখুক এবং দোষীদের দ্রুত খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দিক।”

বুধবার সকালে মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় পরিবার ও প্রতিবেশীদের মনে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বৈবাহিক কোনও পুরনো শত্রুতার জেরে এই হত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও গভীর চক্রান্ত রয়েছে, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি পূর্বপরিকল্পিত খুন নাকি এর পেছনে পারিবারিক কোনও বিবাদ কাজ করছে, তা তদন্তে জানা যাবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!