বায়ুদূষণ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা: মোদী সরকারকে ‘জেদি’ আখ্যা দিয়ে তোপ কংগ্রেসের
ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: দেশের উত্তরভাগ তথা সিন্ধু-গঙ্গা সমভূমি ও হিমালয়ের পাদদেশে বায়ুদূষণের ভয়াবহতা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক রিপোর্টকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রকে আক্রমণ করল কংগ্রেস। রবিবার কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ প্রশ্ন তোলেন, জনস্বাস্থ্য এবং অর্থনীতির ওপর এই গভীর সংকট নিয়ে মোদী সরকার আর কতদিন ‘অস্বীকৃতির’ (Denial) মধ্যে থাকবে? কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী জয়রাম রমেশ বিশ্বব্যাংকের ‘এ ব্রেথ অফ চেঞ্জ’ (A Breath of Change) শীর্ষক রিপোর্টের কথা উল্লেখ করেন। এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, সিন্ধু-গঙ্গা সমভূমি ও হিমালয়ের পাদদেশে প্রতি বছর বায়ুদূষণের কারণে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের অকাল মৃত্যু হচ্ছে। এই অঞ্চলের দেশগুলো প্রতি বছর তাদের জিডিপি-র (GDP) প্রায় ১০ শতাংশ অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
জয়রাম রমেশ এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “বিশ্বব্যাংকের এই রিপোর্টটি অত্যন্ত তথ্যসমৃদ্ধ এবং সময়োপযোগী। এটি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ প্রতিদিন বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছেন, যা তাঁদের গড় আয়ু তিন বছরেরও বেশি কমিয়ে দিচ্ছে।”
রিপোর্টে দূষণ নিয়ন্ত্রণে যে পরামর্শগুলো দেওয়া হয়েছে, রমেশ তার সমর্থনে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন:
১. কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে নির্গমন বিধি কঠোরভাবে কার্যকর করা এবং পুরনো ইউনিটগুলো দ্রুত বন্ধ করা।
২. শহরভিত্তিক পরিকল্পনার বদলে আন্তঃরাজ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে ‘এয়ারশেড-ভিত্তিক’ (Airshed-based) আইনি শাসন কাঠামো তৈরি করা।
৩. গণপরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও বৈদ্যুতিকরণ।
আইন সংশোধনের আহ্বান
ইউপিএ সরকারের আমলের মন্ত্রী রমেশ জানান, কংগ্রেস বারবার ১৯৮১ সালের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন এবং ২০০৯ সালের জাতীয় বায়ুমান মানদণ্ড (NAAQS) পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে। বিশেষ করে বিষাক্ত সূক্ষ্ম ধূলিকণা ‘পিএম ২.৫’ (PM 2.5)-এর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছে তারা। এছাড়াও জাতীয় স্বচ্ছ বায়ু কর্মসূচির (NCAP) পরিধি এবং বাজেট বাড়ানোর সওয়াল করেন তিনি।
রাজধানী দিল্লির ভয়াবহ দূষণ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রমেশ মোদী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “কমিশন দূষণ বিধিতে কোনো শিথিলতা না রাখার কথা বললেও সরকার তা কানে তুলছে না। মোদী সরকার আর কতদিন সত্য অস্বীকার করে বেঁচে থাকবে?” বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বায়ুদূষণ এখন সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য ও উন্নয়নমূলক চ্যালেঞ্জ। অসুস্থতা এবং উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার ফলে যে বিপুল অর্থনৈতিক বোঝা তৈরি হচ্ছে, তা থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
