ডেইলি ডোমকল, কলকাতা: খসড়া ভোটার তালিকার দাবি ও আপত্তির শুনানি এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের জন্য হাতে সময় এক মাসেরও কম। এই পরিস্থিতিতে কাজের গতি বাড়াতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৬,৫০০টি শুনানি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৭ লক্ষ করে শুনানি শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কমিশন।
রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) দপ্তরের সূত্র অনুসারে, এই লক্ষ্যমাত্রা কোনোভাবেই অসম্ভব বা দুঃসাধ্য নয়। হিসেব অনুযায়ী, প্রতিটি কেন্দ্রের নির্বাচনী আধিকারিকদের দিনে গড়ে মাত্র ১০৭টি করে মামলার শুনানি করতে হবে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দাবি ও আপত্তির সমস্ত শুনানি শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এরপর ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে কমিশন। সম্প্রতি কলকাতা সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, এপ্রিল মাসের মধ্যেই ভোট গ্রহণ এবং গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে। সেই লক্ষ্যেই এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালাচ্ছে কমিশন।
বর্তমানে ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের (যাঁরা ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে নিজেদের কোনো যোগসূত্র প্রমাণ করতে পারেননি) শুনানির কাজ প্রায় শেষের পথে। আগামী সপ্তাহ থেকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যুক্তিহীন অসঙ্গতি থাকা মামলাগুলোর শুনানি শুরু হবে। মূলত ফ্যামিলি-ট্রি বা বংশতালিকায় অদ্ভুত সব তথ্য মেলায় এই ভোটারদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পরিচয়পত্র যাচাইয়ে দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে কমিশন। প্রথম স্তরে ‘ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার’ (ERO) এবং দ্বিতীয় স্তরে জেলাশাসকরা নথিপত্র যাচাই করবেন। কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্য সরকারের দেওয়া ডোমিসাইল সার্টিফিকেট (বাসস্থান সংশাপত্র) এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড পরিচয়পত্র বা বয়সের প্রমাণ হিসেবে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।
