ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের খসড়ায় কেন প্রায় ৯৪ লক্ষ ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ (Logical Discrepancy) ধরা পড়েছে, তার সবিস্তার ব্যাখ্যা দিল নির্বাচন কমিশন। ইসিআই-এর দাবি, ‘প্রজেনি ম্যাপিং’ বা পারিবারিক বংশলতিকা পরীক্ষার সময় এমন সব অবিশ্বাস্য ও অসঙ্গত তথ্য সামনে এসেছে, যা কার্যত নজিরবিহীন।
রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম টিকিয়ে রাখতে অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া ভোটাররা প্রকৃত ভোটারদের সঙ্গে নিজেদের মিথ্যা পারিবারিক সম্পর্ক জুড়ে দিয়েছেন। একটি ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ৬৪ বছর বয়সী এক প্রবীণ ভোটারের দুই ছেলের বয়স যথাক্রমে ৬০ ও ৫৯ বছর। অর্থাৎ, খাতায়-কলমে মাত্র ৫ বছর বয়সেই ওই ব্যক্তি বাবা হয়েছিলেন! তদন্তে দেখা যায়, ওই দুই ছেলেই ভুয়া ভোটার। অন্য একটি ঘটনায় দেখা গিয়েছে, একজন প্রবীণ নাগরিকের নামের সঙ্গে ৮ থেকে ১০ জন ভোটারকে তাঁর সন্তান হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু শুনানির সময় জানা যায়, ওই বৃদ্ধের মাত্র দুজন সন্তান রয়েছে এবং তালিকার বাকিদের সঙ্গে তাঁর কোনো রক্তের সম্পর্কই নেই।
নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের মতে, একটি জাল পারিবারিক কাঠামো তৈরি করে প্রকৃত ভোটারদের ভাই-বোন হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে তালিকায় থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেছে ভুয়া ভোটাররা। রাজনৈতিক দলগুলির সমালোচনার জবাবে এক আধিকারিক বলেন, “প্রবীণ নাগরিকদের শুনানিতে ডাকার কারণে আমাদের সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তালিকায় এমন ভয়াবহ অসঙ্গতি আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না। আমাদের লক্ষ্য একটাই—একজন প্রকৃত ভোটারও যেন বাদ না পড়েন, আবার একজন ভুয়া ভোটারও যেন তালিকায় না থাকেন।”
কমিশন সূত্রে খবর, খসড়া ভোটার তালিকার ওপর দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা সোমবার শেষ হয়েছে। এরপর আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নথিপত্র যাচাই ও শুনানির প্রক্রিয়া চলবে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরপরই রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন।
