ডেইলি ডোমকল, কোচি: দেশে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং ‘মৌনতার সংস্কৃতি’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে বিজেপি ও আরএসএস-কে তীব্র আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। সোমবার কোচিতে স্থানীয় পঞ্চায়েত ও পুরসভার নবনির্বাচিত কংগ্রেস প্রতিনিধিদের এক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস সবসময় সাধারণ মানুষের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার পক্ষে, যেখানে বিজেপি চায় সমস্ত সিদ্ধান্ত দিল্লি থেকে নিতে।
রাহুল গান্ধী স্মরণ করিয়ে দেন যে, দেশের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে কংগ্রেসই ৭৩ ও ৭৪ নম্বর সংবিধান সংশোধনী এনেছিল। তিনি বলেন, “বিজেপি ও আরএসএস চায় মানুষ শুধু নির্দেশ মেনে চলুক, কিন্তু কংগ্রেস চায় মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা হোক। গণতন্ত্র মানেই হলো মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, যা স্তব্ধ করা যায় না।”
১০০ দিনের কাজ বা মনরেগা প্রকল্পের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের “আক্রমণ” নিয়ে রাহুল অভিযোগ করেন, যেহেতু এই প্রকল্প স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তাই কেন্দ্র এটি ধ্বংস করতে চাইছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং লোকসভায় এই প্রকল্পের সমালোচনা করেছিলেন, অথচ কোভিডের সময় এই মনরেগাই সাধারণ মানুষকে বাঁচিয়েছিল। কেন্দ্র চায় না শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি পাক বা পঞ্চায়েত স্তরে আর্থিক ক্ষমতা থাকুক।”
বিশিষ্ট মালয়ালি লেখিকা এম. লীলাবতীর সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে রাহুল বলেন, দেশে এক ধরণের ‘চুপ করিয়ে রাখার সংস্কৃতি’ তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, “ওরা চায় ভারত শান্ত থাকুক, যাতে দেশের সম্পদ মুষ্টিমেয় কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া যায়। নাগরিকদের মুখ বন্ধ করা হলো সম্পদ কুক্ষিগত করার প্রথম ধাপ।”
কেরলের স্থানীয় নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF)-এর সাফল্যে কর্মীদের অভিনন্দন জানান রাহুল। তবে জয়ের পর বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি রাজ্যের বেকারত্ব সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “কেরলের হাজার হাজার যুবক কাজের খোঁজে বিদেশে চলে যাচ্ছেন। আমাদের এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে তাঁরা এখানে থেকেই কাজ করতে পারেন।”
বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ওয়েনাড থেকে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত ছিল। কেরলের রাজনৈতিক সচেতনতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, “কেরলের মতো পঞ্চায়েত সভাপতি দেশের আর কোথাও দেখা যায় না। এখানকার মানুষ কখনওই চুপ করে থাকার সংস্কৃতি মেনে নেবে না।” রাহুল গান্ধী জোর দিয়ে বলেন, সংবিধান রক্ষা করার অর্থ হলো গ্রাম ও ওয়ার্ড স্তরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে সুরক্ষিত রাখা। আমলাতন্ত্র বা দিল্লি থেকে সরকার চালানোই বিজেপির লক্ষ্য, যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী বলে তিনি মন্তব্য করেন।
