ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ শানাল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে এই SIR আসলে ‘সফটওয়্যার ইনটেনসিভ রিগিং’ বা সফটওয়্যার ভিত্তিক কারচুপি। ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতার দাবি তুলেছে রাজ্যের শাসক দল। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে ডেরেক ও’ব্রায়েন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের উপ-দলনেতা সাগরিকা ঘোষ এবং সাংসদ সাকেত গোখলে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে তৃণমূল প্রতিনিধিদের সাম্প্রতিক আলোচনার সমস্ত ভিডিও বা লিখিত নথি (Transcripts) জনসমক্ষে আনতে হবে।
ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, “গত ২৮ নভেম্বর এবং ৩১ ডিসেম্বর কমিশনের সঙ্গে আমাদের বৈঠকে আমরা একাধিক গঠনমূলক প্রস্তাব দিয়েছিলাম। ৫০ দিন পেরিয়ে গেলেও সেই আলোচনার কোনো প্রতিলিপি প্রকাশ করা হয়নি। আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না। আপনারা প্রকাশ না করলে আমরাই সেই নথি জনসমক্ষে আনব।” মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে ডেরেক মনে করিয়ে দেন যে, নির্বাচন কমিশনে আসার আগে তিনি কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রকের সচিব ছিলেন, যার দায়িত্বে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ডেরেক বলেন, “এটা তৃণমূল বনাম অন্য কারও লড়াই নয়, এটা বাংলার মানুষের সঙ্গে তাদের লড়াই যারা ভোটারদের জন্য এই প্রক্রিয়াকে যন্ত্রণাদায়ক করে তুলছে।”
তৃণমূল নেত্রী সাগরিকা ঘোষ বলেন, সোমবারই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা রাখতে হবে। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষা করা, কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে কাজ করা নয়। ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি খোঁজার নামে সাধারণ মানুষকে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে দৌড়াতে বাধ্য করা হচ্ছে।”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছেন। ডেরেক ও’ব্রায়েন জানান, চিঠির শেষে একটি হাতে লেখা নোটে মমতা লিখেছেন যে তিনি এই চিঠির কোনো উত্তর আশা করছেন না। ডেরেক প্রশ্ন তোলেন, “কমিশন কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করছে? কেন বারবার সংশোধনী আনা হচ্ছে? এই সফটওয়্যার কারা তৈরি করেছে, সেটা কমিশন স্পষ্ট করুক।”
নির্বাচন কমিশনের দাবি অনুযায়ী, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তালিকার যোগসূত্র স্থাপনের সময় কিছু ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। যেমন— বাবা-মায়ের নামের অমিল অথবা ভোটার ও তাঁর অভিভাবকের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম বা ৫০ বছরের বেশি হওয়া। তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন যে, এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত খামখেয়ালি এবং এর ফলে বহু প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ চলে যেতে পারে। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, যাদের নামে এই অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, তাদের তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন এবং ব্লক অফিসে টাঙিয়ে দিতে হবে যাতে মানুষ সহজেই তথ্য যাচাই করতে পারে।
